হুমকির মুখে বিশ্ব জ্বালানি! হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান-আমেরিকা চরম উত্তেজনা, বন্ধ হতে পারে তেলের খনি!

যুদ্ধবিরতি কি তবে কেবলই সময়ের অপেক্ষা? ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা এখন যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা করছে বিশ্ব। একদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনমনীয় অবস্থান, অন্যদিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে পিছু না হঠার জেদ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে।

কেন থমকে আছে শান্তি আলোচনা? নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনার টেবিলে প্রধান কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। যুক্তরাষ্ট্র চায় আলোচনার শুরুতেই পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে কথা বলতে, কিন্তু ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে—এই বিষয়ে কোনো আপস হবে না।

  • ট্রাম্পের ক্ষোভ: হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে সহযোগীদের নিয়ে বৈঠকে বসেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ইরানের তিন-পর্যায়ের প্রস্তাব শুনে তিনি রীতিমতো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। ট্রাম্পের দাবি, ইরানের উদ্দেশ্য মোটেই ভালো নয়।

  • হরমুজ প্রণালী ও জ্বালানি যুদ্ধ: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হরমুজ প্রণালীকে ইরানের ‘অর্থনৈতিক পারমাণবিক অস্ত্র’ বলে অভিহিত করেছেন। ইরান অবরোধ তুলে নিলে এই পথ খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও, আমেরিকা মনে করছে এটি তাদের দুর্বল করার একটি কৌশল মাত্র।

চরম সংকটে ইরানের অর্থনীতি গত ১৫ দিন ধরে চলা মার্কিন অবরোধে কার্যত নাভিশ্বাস উঠেছে ইরানের। ব্লুমবার্গের তথ্যমতে, আর মাত্র ১৩ দিন এই অবরোধ চললে ইরান তাদের তেলের কূপগুলো পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে।

“তেল কূপগুলো ৭২ ঘণ্টার বেশি বন্ধ থাকলে সেগুলো পুনরায় চালু করতে কয়েক মাস লেগে যেতে পারে, যা ইরানের ভবিষ্যৎ তেল উৎপাদনকে ধ্বংস করে দেবে।”

উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়: মার্কিন প্রতিনিধি মাইক ওয়াল্টজ স্পষ্ট জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার ইরানের নেই। অন্যদিকে, ইরানি রাজনীতিবিদ মাহমুদ নাভাবিয়ান আক্রমণাত্মক সুরে বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রকে অপমান করাই লক্ষ্য, এক গ্রাম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামও সরানো হবে না।”

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy