অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার পর রাজ্যজুড়ে যখন রাজনৈতিক অস্থিরতা, ঠিক সেই সময়েই নতুন করে আগুনে ঘি ঢাললেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। রবিবার সকালে নিউটাউন ইকোপার্কে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে অভিষেক ও তৃণমূল নেতাদের কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তিনি দাবি করলেন, এটি শুধুই সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
‘জনরোষ’ নিয়ে বিস্ফোরক দিলীপ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনায় কড়া সুরেই দিলীপ ঘোষ বলেন, “হিরো হতে গিয়েই এই অবস্থা। যিনি সারা জীবন পুলিশি নিরাপত্তা আর কনভয়ের মধ্যে থেকে রাজনীতি করেছেন, তিনি জনরোষ কী জিনিস তা আগে বোঝেননি।” তিনি আরও যোগ করেন, “মানুষের ক্ষোভ থাকতেই পারে, কিন্তু কেউ যেন আইন হাতে তুলে না নেয়। তবে আমি বলব, কোনো তৃণমূল নেতাকেই নিরাপত্তা দেওয়া উচিত নয়। মানুষ বিচার করুক, যারা বছরের পর বছর সাধারণ মানুষকে লুট করেছে, তারা এখন ক্ষোভের মুখে পড়েছে।”
অভিষেকের চিকিৎসা ও পুলিশ নিয়ে কটাক্ষ অভিষেকের চিকিৎসা বিতর্ক নিয়ে দিলীপের বিদ্রুপ, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই তো ডাক্তার! আজ সরকারি হাসপাতালের সার্টিফিকেটের জন্য কেন ছুটতে হচ্ছে? ১৫ বছর ধরে আমরা যখন পুলিশের বিরুদ্ধে কথা বলেছি, তখন এসব নাটক কোথায় ছিল?” তিনি অভিযোগ করেন, এখন পুলিশ ও চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে তৃণমূল নেতারা যে অভিযোগ তুলছেন, তা সম্পূর্ণ সাজানো নাটক।
‘সব তদন্ত হবে!’ অভিষেকের বাড়িতে সিআইডি তদন্ত প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষের হুঁশিয়ারি, “শুধু সিআইডি কেন? সিবিআই, ইডি, এনআইএ—সবাই তদন্তে নামবে। চোরদের একদিন রাস্তার পোস্টে বাঁধা হবে বলেছিলাম, এখন যা হচ্ছে তা সাধারণ মানুষের ক্ষোভের প্রতিফলন।” এছাড়াও ‘মেসি-কাণ্ডে’ কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি পুনরায় পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান।
রাজনৈতিক উত্তাপ তৃণমূল নেতাদের নিরাপত্তা না দেওয়ার পরামর্শ এবং বিজেপি কর্মীরা অতীতে কীভাবে রাজনৈতিক হিংসার শিকার হয়েছিলেন—সেই পুরনো ক্ষতের কথাও মনে করিয়ে দেন তিনি। দিলীপ ঘোষের এই আক্রমণাত্মক বার্তা যে আগামী দিনে শাসকদলের সঙ্গে বিরোধীদের সংঘাতকে আরও তীব্র করবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।





