হাওড়ায় ভোটের সকালেই ধুন্ধুমার! এজেন্টদের চ্যাংদোলা করে বের করল কেন্দ্রীয় বাহিনী, চলল লাঠিচার্জ

দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ শুরু হতেই অশান্তির আঁচ হাওড়ার বেলুড়ে। ইভিএম (EVM) বিকল হওয়া থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর লাঠিচার্জ— সব মিলিয়ে সোমবার সকাল থেকেই চরম উত্তেজনা ছড়াল বেলুড় সোহনলাল দেওরালিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের বুথে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিক্ষোভরত এজেন্টদের চ্যাংদোলা করে সরিয়ে দিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা।
ইভিএম বিভ্রাট ও বিবাদের সূত্রপাত:
সকাল থেকেই ওই স্কুলের দুটি বুথে ইভিএম খারাপ থাকায় ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া থমকে যায়। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। ঠিক সেই সময়ই বুথের ভেতর বসা নিয়ে তৃণমূল এবং এক নির্দল প্রার্থীর এজেন্টের মধ্যে বচসা শুরু হয়। ডিউটিতে থাকা সিআরপিএফ (CRPF) জওয়ানদের দাবি, ওই দুই এজেন্ট বুথের ভেতরে নিজেদের মধ্যে গোলমাল করছিলেন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করছিলেন। পরিস্থিতি সামলাতে জওয়ানরা তাঁদের বুথ থেকে বের করে দেন।
এজেন্টদের বিক্ষোভ ও বাহিনীর লাঠিচার্জ:
বুথ থেকে বের করে দেওয়ার প্রতিবাদে ওই দুই এজেন্ট স্কুলের মূল গেটের সামনেই শুয়ে পড়েন এবং বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। বারবার বলা সত্ত্বেও তাঁরা না ওঠায় জওয়ানরা কঠোর পদক্ষেপ নেন। তাঁদের হাত-পা ধরে চ্যাংদোলা করে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, বিক্ষোভকারীদের হঠাতে কেন্দ্রীয় বাহিনী লাঠিচার্জও করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্কুল চত্বরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ছাপ্পা ভোটের আতঙ্ক ও ভোটারদের ক্ষোভ:
একদিকে ইভিএম খারাপ হওয়ার দরুন ভোট শুরু হতে দেরি, অন্যদিকে বুথের বাইরে অশান্তি— দুইয়ের মাঝে পড়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটারদের একাংশ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, “ভেতরে হয়তো ছাপ্পা ভোট চলছে, তাই ইচ্ছে করে ভোট শুরু করতে দেরি করা হচ্ছে।” যদিও আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামলেও লাইন ছাড়েননি জেদি ভোটাররা। ছাতা মাথায় দিয়েই নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইভিএম মেরামতির কাজ শেষ করে দ্রুত ভোট প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।