ভোটের সকালেই নজিরবিহীন হার! দক্ষিণ কলকাতায় ম্যাজিক ফিগার, ময়দানে এবার এনআইএ

দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে সকাল থেকেই বাংলায় ধরা পড়ছে এক ভিন্ন ছবি। সমস্ত বিতর্ক ও বিক্ষিপ্ত অশান্তির মাঝেও নির্ভয়ে ভোট দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সকাল ৯টা পর্যন্ত পাওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যে গড় ভোটদানের হার দাঁড়িয়েছে ১৮ শতাংশ। তবে সবথেকে বড় চমক দেখা গিয়েছে দক্ষিণ কলকাতায়, যেখানে প্রথম কয়েক ঘণ্টাতেই ১৬.৮১ শতাংশ ভোট পড়েছে— যা সাম্প্রতিক নির্বাচনের ইতিহাসে কার্যত নজিরবিহীন।

ভোটের ময়দানে এবার এনআইএ (NIA):
শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে নির্বাচন কমিশন। ইডি (ED) ও ইনকাম ট্যাক্স (IT)-এর পাশাপাশি দ্বিতীয় দফায় বড় চমক কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনস্থ ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা এনআইএ (NIA)-এর সক্রিয়তা। নাশকতা বা সন্ত্রাসবাদী হামলার ঝুঁকি এড়াতে এবং দেশের নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবার ভোটের ময়দানে নজরদারি চালাচ্ছে এই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। প্রথম দফায় চোপড়া ও রানিনগরের কিছু বুথে ৯৯ শতাংশের বেশি ভোট পড়ার রেকর্ড তৈরি হওয়ার পর, দ্বিতীয় দফাতেও কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা রাজ্য।

ভবানীপুরে কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সতর্কবার্তা:
ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই ভবানীপুরে উত্তেজনা ছড়ায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, নির্দিষ্ট সংখ্যার বাইরে লোক জড়ো করে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। পুলিশ তৎক্ষণাৎ বাধা দেয় এবং ৪ জনের বেশি জমায়েত না করার বিষয়ে তাঁকে কড়া সতর্কবার্তা দেয়। যদিও কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, “ছুটির মেজাজে গল্প করছিলাম, পুলিশের যে কী অসুবিধা হল কে জানে?”

টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ:
এদিকে ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন বিজেপি প্রার্থী কৌস্তভ বাগচী। তাঁর দাবি, হার নিশ্চিত জেনে তৃণমূল টাকা দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে এবং ভয় দেখাচ্ছে। কৌস্তভ বলেন, “এসব করেও তৃণমূল পার পাবে না। মানুষ আমার পাশেই আছেন।” যদিও শাসক শিবিরের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

এক নজরে সকালের ভোটচিত্র:

পূর্ব বর্ধমান: ২১% (সর্বোচ্চ)

নদিয়া: ১৮.০৫%

উত্তর ২৪ পরগনা: ১৭.৮১%

হাওড়া: ১৭.৭৬%

দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ১৭.২৫%

উত্তর কলকাতা: ১৭.২১%

দক্ষিণ কলকাতা: ১৬.৮১%