হাইকোর্টের কড়া হুঁশিয়ারি! শেষে কি কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে বাধ্য হলেন অভিষেক?

কলকাতা হাইকোর্টের কড়া নির্দেশের পর অবশেষে ডিজে হুমকি মামলায় কণ্ঠস্বরের নমুনা দেওয়ার জন্য বিধাননগর আদালতের পথে রওনা দিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতের আগের নির্দেশকে উপেক্ষা করে দুবার হাজিরা এড়ানোর পর, তৃতীয়বার আর ঝুঁকি নেননি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। আজ বেলা ১২টা নাগাদ বিধাননগর এসিজেএম আদালতে সিআইডি অফিসারদের উপস্থিতিতে তাঁর কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
গত ১০ জুলাই কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য এই বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, ডিজে হুমকি মামলায় কণ্ঠস্বরের নমুনা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিতেই হবে। বিচারপতি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, এবার হাজিরা না দিলে অভিষেকের রক্ষাকবচ তুলে নেওয়া হতে পারে। হাইকোর্টের এই কঠোর অবস্থানের পরেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছড়িয়েছিল যে, শেষ পর্যন্ত কি অভিষেক হাজিরা দেবেন? হাইকোর্টের সেই নির্দেশের পর আর কোনো আইনি পথে না গিয়ে আজ নির্ধারিত সময়েই হাজির হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।
অভিষেকের হাজিরাকে কেন্দ্র করে বিধাননগর আদালত চত্বরে ব্যাপক নিরাপত্তার আয়োজন করা হয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বা তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের ভিড় সামলাতে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। আদালত চত্বরে জমায়েতের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই মামলার সূত্রপাত হয়েছিল গত ৩০ জুন থেকে। ওইদিন প্রথমবার বিধাননগর আদালত অভিষেককে কণ্ঠস্বরের নমুনা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল, কিন্তু তিনি যাননি। এরপর গত ৮ জুলাই দ্বিতীয়বারও তিনি হাজিরা এড়ান। সেবার অভিষেকের আইনজীবীরা কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, অভিষেক নিজেই স্বীকার করেছেন যে সংশ্লিষ্ট অডিও ক্লিপটিতে তাঁরই কণ্ঠস্বর রয়েছে, তাই নতুন করে নমুনা পরীক্ষার আর প্রয়োজন নেই। তবে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি এবং আবেদন খারিজ করে ১৫ জুলাই বেলা ১২টার সময় আদালতে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশে অভিষেকের আইনজীবীরা সাংসদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছিলেন। সেই নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করেই আদালতের নির্দেশ পালনের পথে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আজকের এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সিআইডি তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।