হাইকোর্টের অনুমতিতে হাওড়ার আমতায় শুভেন্দু অধিকারীর সভা, ‘দ্রুত সেঞ্চুরি হবে’ বলে হুঁশিয়ারি!

হাওড়া জেলার আমতায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর জনসভার জন্য অবশেষে কলকাতা হাইকোর্ট অনুমতি দিয়েছে। বৃহস্পতিবার আমতা ফুটবল মাঠে এই সভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রথমে স্থানীয় প্রশাসন এই সভার জন্য অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছিল। তবে আইনি পথে অনুমতি পাওয়ায় শুভেন্দু অধিকারী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে দাবি করেছেন, তাঁর সভা দ্রুত ‘সেঞ্চুরি’ (১০০টি সভা) পূরণ করবে।
বাবরি মসজিদ ইস্যুতে বিতর্কিত মন্তব্য:
হাইকোর্টের অনুমতি পাওয়ার পাশাপাশি, সম্প্রতি মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে বাবরি মসজিদ ইস্যুকে কেন্দ্র করে তাঁর দেওয়া বিতর্কিত মন্তব্য নিয়েও শুভেন্দু অধিকারী সরব হন। তিনি সাসপেন্ডেড তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে সরাসরি আক্রমণ করে বলেন, “হুমায়ুন কবীরের ভাষা তো ঠিক মহম্মদ আলি জিন্নাহদের মতো ভাষা বেরোচ্ছে।”
গত ৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করেছিলেন হুমায়ুন কবীর। এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর বিস্ফোরক অভিযোগগুলি হলো:
বাবরের পরিচয়: শুভেন্দু দাবি করেন, “বাবর একজন ধর্ষণকারী ছিলেন, লুঠেরা ছিলেন। তিনি ভারতের কেউ ছিলেন না। তিনি ভারত দখল করতে এসেছিলেন। ভারতের মন্দিরগুলো ভেঙে-গুঁড়িয়ে, আদিবাসীদের ধর্ম পরিবর্তন করতে এসেছিলেন।”
সরকারি মদতে উন্মাদনা: তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ-প্রশাসনের পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ মদতে বিনা অনুমতিতে এক হাজার পুলিশ দিয়ে এই ধর্মীয় ‘উল্লাস’ সংগঠিত করা হয়েছে। তাঁর মতে, এটা ‘বাংলাদেশের মৌলবাদীদের যে আস্ফালন তার প্রভাব সীমান্তবর্তী মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদে দেখানো হয়েছে।’
বৈষম্যের অভিযোগ: শুভেন্দু প্রশ্ন তোলেন, সরস্বতী পুজো করতে গেলে ছাত্রীকে হাইকোর্টে যেতে হয়, দোল দাহন করতে গেলেও পুলিশি আপত্তিতে হাইকোর্টের অর্ডারে রাতে গলি মধ্যে করতে হয়। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘একচোখ বন্ধ করে’ এই ধরনের অনুষ্ঠানের অনুমতি দিলেন।
তিনি আরও বলেন, মন্দির-মসজিদ-গির্জা-গুরুদোয়ারা বৈধভাবে নিজেদের জায়গায় নিজেদের সম্প্রদায়ের লোকেরা অর্থ জোগাড় করে তৈরি করুক। কিন্তু, ‘বাবরের নামে করব, কিছু করতে পারবে না’—এই আস্ফালন বরদাস্ত করা হবে না।