হরিরামপুরের মন্তব্য নিয়ে বিপাকে মমতা? কমিশনের দ্বারস্থ বিজেপি, দাবি জানানো হলো FIR-এর!

ভোটের মুখে ফের তুঙ্গে রাজ্য-রাজনীতির সংঘাত। এবার খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্বাচনের প্রচার থেকে পুরোপুরি ‘ব্যান’ বা নিষিদ্ধ করার দাবি নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হলো ভারতীয় জনতা পার্টি। শুধু নিষেধাজ্ঞাই নয়, মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করার আর্জিও জানানো হয়েছে।

বিজেপির মূল অভিযোগ কী? বিজেপির অভিযোগ, হরিরামপুরে নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে প্ররোচনামূলক মন্তব্য করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গেরুয়া শিবিরের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরনের মন্তব্য কেবল নির্বাচনী বিধি (Model Code of Conduct) লঙ্ঘনই নয়, বরং সাধারণ মানুষকে উত্তেজিত করে দেশের সার্বভৌমত্বকেও আঘাত করার নামান্তর। বুধবার বীরেন্দ্র সিং, অর্জুন রাম মেঘওয়াল এবং অরুণ সিং-এর সমন্বয়ে গঠিত বিজেপির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল কমিশনে গিয়ে এই নালিশ জানায়।

৪০ পাতার ‘চার্জশিট’ ও আক্রমণ: কমিশনে অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি এদিন তৃণমূল সরকারের গত ১৫ বছরের শাসনকাল নিয়ে একটি বিস্তারিত ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করেছে বিজেপি। ৪০ পাতার এই দীর্ঘ নথিতে মূলত ১৪টি ক্ষেত্রকে নিশানা করা হয়েছে। বিজেপির দাবি:

  • রাজ্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার চরম অবনতি হয়েছে।

  • নিয়োগ দুর্নীতি ও নারী নিরাপত্তার অভাব এখন নিত্যদিনের ঘটনা।

  • সরকারি কর্মীদের ডিএ (DA) এবং সপ্তম পে কমিশন নিয়ে বঞ্চনা করা হচ্ছে।

টার্গেটে অভিষেকও: বিজেপির এই অভিযোগপত্রে শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন, নিশানায় রাখা হয়েছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। অমিত শাহের উপস্থিতিতে এই ‘চার্জশিট’ প্রকাশের মাধ্যমে বিজেপি আসলে রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সাফল্যকে ভোটারদের সামনে তুলে ধরতে চাইছে।

নির্বাচনের আগে প্রচারের ময়দান থেকে খোদ মুখ্যমন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়ার বিজেপির এই কৌশল রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এখন দেখার, নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগের ভিত্তিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনো কড়া পদক্ষেপ নেয় কি না।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy