“হরমুজ প্রণালী ঘিরে সংঘাতের চরমে”-ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের ঘোষণা ট্রাম্পের

উত্তর ইরাকে একটি ইরানি ড্রোন নিষ্ক্রিয় করার সময় এক মার্কিন সেনার মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। ঘটনার পরপরই ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে পাল্টা বিধ্বংসী বিমান হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। এই ঘটনায় উভয় দেশের মধ্যে উত্তেজনা এখন চরমে।

ঘটনার সূত্রপাত: মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত ১৮ জুলাই উত্তর ইরাকে একটি ইরানি ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক’ ড্রোন শনাক্ত করা হয়। সেটি বিস্ফোরণের আগেই মাটিতে নামাতে সক্ষম হয় মার্কিন সেনা। কিন্তু ড্রোনটি নিষ্ক্রিয় করার সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণে এক মার্কিন সেনার মৃত্যু হয় এবং আরও একজন আহত হন। গত পাঁচ মাসে মধ্যপ্রাচ্যে চলা এই সংঘাতে এই নিয়ে মোট ১৭ জন মার্কিন সেনার মৃত্যু হলো।

আমেরিকার পাল্টা আক্রমণ: সহকর্মীর মৃত্যুর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, “আজ রাতেও আমরা ইরানে অত্যন্ত জোরালো হামলা চালিয়েছি।” সেন্টকম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে অসামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের সুরক্ষার স্বার্থেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। ইরানের সামরিক ঘাঁটি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করাই এই বিমান হামলার মূল উদ্দেশ্য।

ইরানে বিস্ফোরণের আতঙ্ক: মার্কিন হামলার জেরে ইরানের বিভিন্ন প্রান্তে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যাচ্ছে:

  • চাবাহার: ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বন্দর শহর চাবাহারে একাধিক জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

  • কোনারা: শহরটিতে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Air Defense System) সক্রিয় করা হয়েছে।

  • তাবরিজ: ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির দাবি, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের এই শহরেও মার্কিন বিমান হামলা হয়েছে।

  • তেলবাহী ট্যাঙ্কার: ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডস দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালীর কাছে তাদের দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার বিস্ফোরণে ধ্বংস হয়েছে।

বাহরিনে মার্কিন সতর্কতা: এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই বাহরিনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। তাদের কাছে খবর রয়েছে যে, ইরান মানামা শহরে হামলার ছক কষছে। তাই মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকার ও স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে দূতাবাস।

এখন পর্যন্ত ইরান সরকারের পক্ষ থেকে তাদের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি। বিশ্ববাজারে তেলের দাম এবং ভূ-রাজনীতির স্থিতিশীলতা এখন পুরোটাই এই দুই দেশের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।