“হরমুজ প্রণালীর তালা খুলছে!”-আমেরিকা-ইরানের ১৪ দফার ঐতিহাসিক চুক্তি প্রকাশ্যে

বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির ওপর প্রভাব বিস্তারকারী দীর্ঘদিনের ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসানে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান—ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মাসউদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফা সম্বলিত একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) প্রকাশ্যে এনেছে আমেরিকা। এই চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পথ প্রশস্ত হলো।
চুক্তির মূল কেন্দ্রে ৫ নম্বর দফা: গোটা বিশ্বের নজর এখন এই মউ-এর ৫ নম্বর দফার দিকে। এই ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, স্বাক্ষরের পর থেকে ইরান পরবর্তী ৬০ দিনের জন্য বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কোনো টোল আরোপ করবে না। তবে তার আগে, যুদ্ধের কারণে পথে থাকা সামরিক বাধা এবং সমুদ্রের নিচে পুঁতে রাখা স্থলমাইন অপসারণে ইরানকে ৩০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে।
চুক্তির উল্লেখযোগ্য দিক:
মাইন অপসারণ: চুক্তির ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালীর জলপথ নিরাপদ করতে সব মাইন সরিয়ে ফেলবে ইরান।
শুল্কমুক্ত চলাচল: আগামী ৬০ দিন কোনো টোল ছাড়াই পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের মধ্যে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করবে তেহরান।
চূড়ান্ত চুক্তি: এই ৬০ দিনের মধ্যে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।
ভবিষ্যৎ কৌশল: ৬০ দিন পর থেকে হরমুজ প্রণালীর পরিচালনা নিয়ে ওমান এবং পারস্য উপসাগরের অন্যান্য সীমান্তবর্তী দেশগুলোর সঙ্গে ইরান একটি নতুন ব্যবস্থা গড়ে তুলবে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়বে? হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অপরিশোধিত তেল সরবরাহের প্রধান ধমনী, যা দিয়ে মোট চাহিদার ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের শুরু থেকে ইরান এই পথ অবরোধ করে রাখায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল। এই মউ-এর মাধ্যমে পথটি খুলে গেলে অপরিশোধিত তেলের দাম স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।
জটিলতার ইঙ্গিত: যদিও প্রথম ৬০ দিন টোলমুক্ত চলাচলের কথা বলা হয়েছে, তবে চুক্তির পরবর্তী পর্যায় ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন কৌতূহল। ওমান ও অন্যান্য আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের যৌথ টোল আদায়ের ব্যবস্থা তৈরির ইঙ্গিত মিলেছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে থাকবে বলে জানানো হয়েছে। তবে ৬০ দিন পর ইরান আদৌ কোনো টোল আরোপের পথে হাঁটবে কি না, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
এই ঐতিহাসিক চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা ফেরার আশা দেখছে আন্তর্জাতিক মহল। এখন দেখার, এই ১৪ দফা কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়।