রাস্তায় আবর্জনা ফেললেই মোটা জরিমানা! ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যে কড়া নিয়ম, হুঁশিয়ারি মন্ত্রীর

রাজ্যের শহরাঞ্চলকে জঞ্জালমুক্ত এবং পরিবেশবান্ধব গড়ে তোলার লক্ষ্যে নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। এখন থেকে যত্রতত্র আবর্জনা কিংবা প্লাস্টিক বর্জ্য ফেললে নেওয়া হবে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। বৃহস্পতিবার সকালে হাওড়ার রামকৃষ্ণপুর ঘাটে এক বিশেষ ‘স্বচ্ছতা অভিযান’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এ কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই নিয়ম রাজ্যজুড়ে কড়াকড়িভাবে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

এদিন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জোর দিয়ে বলেন, “শহরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা কেবল প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এতে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। রাস্তাঘাটে প্লাস্টিক, খাবারের প্যাকেট, কিংবা নির্মাণ কাজের বর্জ্য ফেলে পরিবেশ দূষণ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ভয় নয়, বরং মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি বিশেষ নজরদারিও বাড়ানো হবে।

জানা গেছে, ১৫ জুন থেকে রাজ্যে ছয় দিনের একটি বিশেষ ‘স্বচ্ছতা অভিযান’ শুরু হয়েছে, যা ২০ জুন পর্যন্ত চলবে। এই কর্মসূচির আওতায় শহরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা, পার্ক, খেলার মাঠ, নদীর ঘাট এবং জনবহুল এলাকাগুলিকে পরিষ্কার করার কাজ চলছে। এই অভিযানে প্রশাসনের কর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে যুক্ত করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, “২০ জুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজ্য সফর রয়েছে। এছাড়া ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। এই দুটি বড় অনুষ্ঠানের আগে শহরকে আরও পরিচ্ছন্ন ও সাজিয়ে তোলা আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার।” তবে তিনি সাফ জানিয়েছেন, এটি কেবল কোনো নির্দিষ্ট দিনের কর্মসূচি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি জনসচেতনতা গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

এদিন হাওড়ার প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়েও সরব হন মন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে হাওড়া পুরসভায় নির্বাচন না হওয়ায় এলাকার বিধায়কদের ওপর বাড়তি দায়িত্ব পড়ছে। তিনি বলেন, “কিছু জায়গায় প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলরদের একাংশ তাদের দায়িত্ব পালনে অনীহা দেখাচ্ছেন এবং কাজ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।”

বর্ষার আগমনে শহরের নিকাশি ব্যবস্থা নিয়েও সরকার যথেষ্ট তৎপর। মন্ত্রী জানান, ছোট-বড় নর্দমা ও খাল সংস্কারের কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে, যাতে বৃষ্টির সময় জল জমার সমস্যা অনেকটাই লাঘব করা যায়। পাশাপাশি, বর্ষাকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা এড়াতে শহরের সমস্ত ল্যাম্পপোস্ট ও বৈদ্যুতিক পরিকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীর কথায়, “একটি স্বচ্ছ, পরিষ্কার এবং নিরাপদ শহর গড়ে তোলাই আমাদের সরকারের প্রধান লক্ষ্য। আশা করছি, সাধারণ মানুষ এই অভিযানে আমাদের সহযোগিতা করবেন।”