হবু স্ত্রীর ষড়যন্ত্রে প্রাণ হারান কেতন! খুনিদের সাজা নিশ্চিত করতে ময়দানে বিশেষ আইনজীবী উজ্জ্বল নিকম

লোনাভালায় হবু স্ত্রী ও তার প্রেমিকের ষড়যন্ত্রে তরুণ ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল খুনের ঘটনায় বিচার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে বড় পদক্ষেপ নিল মহারাষ্ট্র সরকার। দোষীদের কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করতে এই হাই-প্রোফাইল মামলার বিশেষ সরকারি আইনজীবী (Special Public Prosecutor) হিসেবে নিয়োগ করা হলো দেশের প্রবীণ ও খ্যাতনামা আইনজীবী উজ্জ্বল নিকমকে। যিনি অতীতে ২৬/১১ মুম্বই জঙ্গি হামলার মতো গুরুত্বপূর্ণ মামলার আইনি লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি ও পদক্ষেপ: শুক্রবার পুনেতে মৃত তরুণের বাবা বিশাল আগরওয়ালের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। কেতনের পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত বিচারের জন্য ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠন এবং উজ্জ্বল নিকমকে নিযুক্ত করার আর্জি জানানো হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে এই আর্জি মঞ্জুর করেন। আইনজীবী উজ্জ্বল নিকমও এই মামলা লড়ার জন্য লিখিত সম্মতি দিয়েছেন। পাশাপাশি, ফড়নবিশ আইন ও বিচার বিভাগকে অবিলম্বে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।
কী ঘটেছিল সেই ভয়ংকর দিনে? পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে এক শিউরে ওঠার মতো ছক। লোহাগড় দুর্গে ট্রেকিংয়ের নাম করে কেতনকে নিয়ে গিয়েছিল তাঁর হবু স্ত্রী সিয়া গোয়েল ও তার প্রেমিক চেতন চৌধুরী। পুলিশ জানিয়েছে, এর আগেও ১৪ জুন একবার কেতনকে পাহাড় থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন সিয়া, কিন্তু কোনোমতে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। অবশেষে ১৮ জুন সুপরিকল্পিতভাবে প্রেমিক চেতনকে সঙ্গে নিয়ে কেতনকে গভীর উপত্যকায় ঠেলে ফেলে খুন করে সিয়া। প্রথমে এটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে চালানোর চেষ্টা করা হলেও, পুলিশের জেরা ও তদন্তে আসল সত্য বেরিয়ে আসে।
মুখ্যমন্ত্রীর উদ্বেগ: কেতনের পরিবারের সাথে সাক্ষাতের পর সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের মানসিকতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষিত যুবক-যুবতীদের একাংশের মধ্যে যে ধরনের ‘বিকৃত ও প্রতিহিংসাপরায়ণ মানসিকতা’ দানা বাঁধছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগের। এই ঘটনার মূল উৎপাটন করতে এখন সমাজের আত্মবিশ্লেষণের প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
কেতনের পরিবার এখন প্রবীণ আইনজীবী উজ্জ্বল নিকমের উপস্থিতিতে দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অপেক্ষায় রয়েছে।