হঠাৎ সুর নরম ট্রাম্পের! ইরানে কি থামছে মৃত্যুমিছিল? মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবিতে চাঞ্চল্য

দিনের পর দিন চরম উত্তেজনা ও যুদ্ধের আশঙ্কার মাঝে হঠাৎই সুর নরম করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত কয়েকদিন ধরে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেওয়ার পর ট্রাম্প বুধবার জানিয়েছেন, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর হত্যাকাণ্ড এবং পরিকল্পিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা আপাতত বন্ধ হয়েছে। কিন্তু ট্রাম্পের এই নমনীয় অবস্থানের মাঝেই ইরান থেকে ধেয়ে এল সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি, যা দুই দেশের সংঘাতকে এক নজিরবিহীন পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

ট্রাম্পকে ‘টার্গেট’ করে ভিডিও প্রকাশ ইরানের: ট্রাম্প সুর নরম করলেও ইরানের জাতীয় সংবাদমাধ্যমে সম্প্রচারিত একটি ভিডিও বার্তা ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। ওই ভিডিওতে ২০২৪ সালে পেনসিলভানিয়ার বাটলার শহরে ট্রাম্পের ওপর হওয়া প্রাণঘাতী হামলার দৃশ্য ব্যবহার করা হয়েছে। যেখানে ট্রাম্পের কান ছুঁয়ে গুলি চলে যাওয়ার সেই রক্তাক্ত মুহূর্তটি দেখিয়ে বার্তা দেওয়া হয়েছে— “এবার আর লক্ষ্যভ্রষ্ট হবে না গুলি।” অর্থাৎ, সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হত্যার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

বিক্ষোভকারীর প্রাণরক্ষা ও ট্রাম্পের দাবি: ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমাকে জানানো হয়েছে যে, ইরানে বিক্ষোভ সংক্রান্ত হত্যা এবং পরিকল্পিত ফাঁসি বন্ধ রাখা হয়েছে। আমার কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হচ্ছে না।” এই খবরের সত্যতা মিলেছে নরওয়ে-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হেঙ্গাও’-এর রিপোর্টেও। জানা গেছে, ২৬ বছর বয়সী ইরানি বিক্ষোভকারী এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

বাস্তব চিত্র বনাম সরকারি দাবি: যদিও ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফাঁসির পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছেন, তবে ইরানের বিচার বিভাগের সুর সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি-এজেই সাফ জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের বিচার দ্রুত শেষ করতে হবে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি অনুযায়ী, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ইরান এখন সবথেকে ভয়াবহ সময় পার করছে। দমন-পীড়নে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৮ হাজারেরও বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।

সামরিক তৎপরতা ও উদ্বেগ: এদিকে ট্রাম্প সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি। সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কায় কাতারের একটি মার্কিন বিমানঘাঁটি থেকে কিছু কর্মী প্রত্যাহার শুরু করেছে আমেরিকা। ট্রাম্পের এই হঠাৎ ‘ইউ-টার্ন’ এবং ইরানের পালটা খুনের হুমকির সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে বিশ্ব।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy