দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহ যে এমন বীভৎস রূপ নিতে পারে, তা কল্পনাও করতে পারেননি দক্ষিণ দুর্গাপুরের বাসিন্দারা। শুক্রবার গভীর রাতে নিজের বাড়িতেই স্ত্রী অনুরূপা হালদারকে (৪০) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল স্বামী হরপ্রসাদ হালদারের বিরুদ্ধে। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর এলাকা থেকে পালানোর চেষ্টা না করে সরাসরি পাথরপ্রতিমা থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন অভিযুক্ত স্বামী।
🔪 নিস্তব্ধ রাতে নারকীয় কাণ্ড
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হরপ্রসাদ পেশায় একজন পরিযায়ী শ্রমিক, দীর্ঘদিন কেরালায় কাজ করতেন। তাঁদের ২২ বছরের বিবাহিত জীবনে একটি ২০ বছরের পুত্রসন্তানও রয়েছে। অভিযোগ, শুক্রবার রাতে অনুরূপাকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপ মারেন হরপ্রসাদ। আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। অবাক করা বিষয় হলো, পাশের বাড়ির লোকজন বা পরিবারের অন্য সদস্যরা টেরও পাননি কোনো চিৎকার বা ধস্তাধস্তির শব্দ।
⚖️ “বাবা দোষী, কঠিন শাস্তি চাই”—আর্তনাদ পুত্রের
মৃত মহিলার ছেলে পীযূষ হালদার কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, তাঁর বাবা ও মায়ের মধ্যে প্রায়ই অশান্তি লেগে থাকত। এর আগেও অনুরূপাকে মারধর করা হয়েছিল এবং একাধিকবার গ্রাম্য সালিশির মাধ্যমে বিবাদ মেটানোর চেষ্টাও চলেছিল। পীযূষের কথায়, “আমার বাবা সম্পূর্ণ দোষী। আগে অনেকবার মাকে মেরেছে, এবার মেরেই ফেলল। আমি বাবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
🔍 পুলিশের বয়ান ও তদন্ত
সুন্দরবন পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাপ্পাদিত্য ঘোষ জানিয়েছেন, অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু হয়েছে। দেহটি উদ্ধার করে কাকদ্বীপ পুলিশ মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তি এবং দূরত্বের কারণেই এই হত্যাকাণ্ড।
🏠 ঘটনার নেপথ্যে কী?
প্রতিবেশীদের দাবি, হরপ্রসাদ কেরালায় থাকার সময় অনুরূপা বেশিরভাগ সময় বাপের বাড়িতে থাকতেন। সম্প্রতি হরপ্রসাদের মায়ের মৃত্যুর পর তিনি স্ত্রীকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। কিন্তু তাতেও তিক্ততা কমেনি, বরং অশান্তি আরও তীব্র হয়। কেরালা থেকে ফিরে আসার কয়েকদিনের মধ্যেই এই মর্মান্তিক কাণ্ড ঘটিয়ে বসেন হরপ্রসাদ।





