এক দিনে দুটি বড় ধাক্কা! হরিয়ানায় ঘুষ নেওয়ার সময় হাতে-নাতে ধরা পড়ল পুলিশ অফিসার ও শিক্ষা দপ্তরের কর্মী

হরিয়ানার নুহ জেলায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে দুর্নীতি দমন ব্যুরো (এসিবি)। সোমবার একই দিনে দুটি বড় ও সফল অভিযান চালিয়ে পুলিশ বিভাগ এবং শিক্ষা দপ্তরের দুই কর্মীকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে হাতে-নাতে গ্রেপ্তার করেছে এসিবি-র দল। এই জোড়া গ্রেপ্তারের ফলে জেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে এবং দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রথম ঘটনায়, নুহ জেলার পুনহানা সিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসএইচও) কুন্দনকে ৫০,০০০ টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় গ্রেপ্তার করা হয়। এসিবি সূত্রে জানা গেছে, একটি ধর্ষণ মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়া বা ক্লিয়ারেন্স দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত পুলিশ অফিসার এক লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন। এসিবি-র দলটি যখন তাঁকে ধরতে যায়, তখন তিনি পরিস্থিতি বুঝে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সতর্ক আধিকারিকরা ধাওয়া করে তাঁকে ধরে ফেলেন। বর্তমানে তাঁকে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। থানায় বসে খোদ পুলিশ কর্মকর্তার এমন দুর্নীতিতে সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

দ্বিতীয় অভিযানটি চালানো হয় জেলা শিক্ষা দপ্তরে। সেখানে কর্মরত শাকির নামের এক কর্মচারীকে ২৫,০০০ টাকা ঘুষ নেওয়ার অপরাধে পাকড়াও করে এসিবি। ঘুডাওয়ালির বাসিন্দা শাকিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে, তিনি নিজের দপ্তরেরই এক শিক্ষকের একটি মেডিকেল বিল পাস করে দেওয়ার বিনিময়ে এই উৎকোচ দাবি করেছিলেন। ফাঁদ পেতে এসিবি-র দল তাঁকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। একদিনের ব্যবধানে মোট ৭৫,০০০ টাকার ঘুষ কেলেঙ্কারিতে দুই সরকারি কর্মচারীর আটকের ঘটনাটি নুহ জেলার প্রশাসনিক মহলে বড় ধরনের নাড়া দিয়েছে।

এসিবি আম্বালার ইন্সপেক্টর রাজেন্দ্র স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা এবং সরকারি দপ্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই অভিযান আগামী দিনেও অবিচলভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে। প্রশাসনের এমন কঠোর পদক্ষেপে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।