আজ সকাল ১১টা ৪২ মিনিট। হঠাৎই ভারতের কোটি কোটি নাগরিকের স্মার্টফোন বিকট শব্দে বেজে ওঠে। পকেটে বা হাতে থাকা ফোন আচমকা ভাইব্রেট হওয়ার পাশাপাশি স্ক্রিনে ভেসে ওঠে একটি ‘ফ্ল্যাশ মেসেজ’। অনেকের ফোনে বিপদের সংকেত বা SOS অ্যালার্টের মতো আওয়াজ হওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র চাঞ্চল্য। তবে কি কোনো বড় বিপদ ঘনিয়ে আসছে? বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলল কেন্দ্র।
ভয়ের কিছু নেই, এটি শুধুই ‘টেস্ট’
দিল্লি থেকে কলকাতা— দেশের প্রান্তিক মানুষের ফোনে আজ ইংরেজি ও হিন্দি ভাষায় একটি পরীক্ষামূলক বার্তা পাঠানো হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এটি একটি ‘প্যান-ইন্ডিয়া সেল ব্রডকাস্ট সিস্টেম’-এর টেস্টিং। ভারত সরকারের টেলিকমিউনিকেশন বিভাগ (DoT) এই পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করে দেখছে যে, কোনো বড় বিপর্যয়ের সময় দেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে কত দ্রুত সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
দেশীয় প্রযুক্তিতে সুরক্ষা কবচ
সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই সিস্টেমটি তৈরি করেছে ভারতের অন্যতম সেরা গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অব টেলেমাটিক্স’ (C-DOT)। ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (NDMA)-এর সঙ্গে যৌথভাবে এই ‘মোবাইল ডিজাস্টার কমিউনিকেশন সিস্টেম’ তৈরি করা হয়েছে।
ইতিহাস: এর আগে সি-ডট ১৯টি ভারতীয় ভাষায় প্রায় ১৩৪ বিলিয়ন এসএমএস পাঠিয়ে ঘূর্ণিঝড় বা খারাপ আবহাওয়ার সতর্কতা দিয়েছে।
উদ্দেশ্য: এবার সরাসরি ফোনের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ‘ফ্ল্যাশ মেসেজ’ পাঠানো হবে, যাতে ইন্টারনেট না থাকলেও মানুষ সতর্ক হতে পারেন।
ইজরায়েলি ধাঁচে বাঙ্কারে যাওয়ার ডাক?
ভারতের এই নতুন সিস্টেমটি অনেকটা ইজরায়েলের প্রযুক্তির মতো। ইজরায়েলে যখনই কোনো মিসাইল, ড্রোন বা রকেট হামলা হয়, তৎক্ষণাৎ নাগরিকদের ফোনে এই ধরনের অ্যালার্ট চলে যায়। সেই সংকেত পাওয়া মাত্রই মানুষ নিরাপদ বাঙ্কারে আশ্রয় নেন। ভারত সরকারও চাইছে বড় কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা জরুরি অবস্থায় ঠিক একইভাবে দেশের মানুষকে রক্ষা করতে।
কেন আপনার ফোনে এই আওয়াজ?
সরকার জানিয়েছে, ভবিষ্যতে বড় কোনো ভূমিকম্প, সুনামি বা সাইক্লোনের পূর্বাভাস দিতে এই সিস্টেমটি লাইফলাইন হিসেবে কাজ করবে। আজকের পরীক্ষাটি ছিল মূলত সিস্টেমের সক্ষমতা যাচাই করার জন্য। তাই আপনার ফোনেও যদি আজ এমন মেসেজ এসে থাকে, তবে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। বরং এটি আপনার আগাম সুরক্ষারই একটি অংশ।





