ভারতীয় রাজনীতির মানচিত্রে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল পূর্ব ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল ‘অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গ’ বিজয়— অর্থাৎ বিহার, বাংলা এবং ওড়িশায় বিজেপির শাসন প্রতিষ্ঠা। সেই লক্ষ্যপূরণে পশ্চিমবঙ্গ এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হলো। বাংলায় বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীকে বেছে নেওয়ার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কণ্ঠে শোনা গেল সেই তৃপ্তির সুর।
মোদির স্বপ্ন এবং পূর্ব ভারত বিজয়
বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের দীর্ঘদিনের কৌশল ছিল পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করা। অমিত শাহ আজ সংবাদমাধ্যমের সামনে স্পষ্ট জানান, প্রধানমন্ত্রী মোদি সবসময় বিশ্বাস করতেন যে ভারতের সামগ্রিক উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন দেশের পূর্ব প্রান্ত শক্তিশালী হবে। আজ বাংলার মসনদে বিজেপির জয় সেই বৃত্ত সম্পূর্ণ করল। শাহের কথায়, “প্রধানমন্ত্রী যে অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গ জয়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন, আজ তা বাস্তবায়িত হলো।”
মুখ্যমন্ত্রী পদে শুভেন্দু কেন?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর হাতে বাংলার প্রশাসনিক দায়িত্ব তুলে দেওয়া বিজেপির একটি অত্যন্ত সুচিন্তিত পদক্ষেপ। মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র শুভেন্দুর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং তৃণমূলের ‘গড়’ ভাঙার লড়াই তাকে দলের অন্দরে নির্ভরযোগ্য করে তুলেছে।
দিল্লির বৈঠকে শুভেন্দুর নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর শাহ বলেন, “বাংলার মাটি এবং মানুষের সঙ্গে যার নাড়ির টান, সেই লড়াকু নেতার হাতেই রাজ্যের দায়িত্ব দেওয়া হলো। বাংলার মানুষ এবার প্রকৃত পরিবর্তন এবং সুশাসন দেখতে পাবে।”
নতুন অধ্যায়ের সূচনা
শুভেন্দু অধিকারীকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণার পর রাজ্য বিজেপির অন্দরে খুশির হাওয়া। কর্মী-সমর্থকদের মতে, এটি কেবল একটি পদপ্রাপ্তি নয়, বরং বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন ধারার সূচনা। অমিত শাহের আত্মবিশ্বাসী বার্তা এটাই বুঝিয়ে দিল যে, আগামী দিনে পূর্ব ভারতে বিজেপির এই অবস্থান আরও মজবুত হতে চলেছে।





