ইরান ও ইজরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের জেরে উত্তাল গোটা বিশ্ব। রণক্ষেত্রের আঁচ এবার সরাসরি এসে পড়ল ভারতের রান্নাঘরে। যুদ্ধের প্রভাবে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে টান পড়েছে। ভারতেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হতেই তৎপর হলো মোদী সরকার। দেশের সাধারণ মানুষের হেঁশেল সচল রাখতে এবার ‘অপরিহার্য পণ্য আইন’ বা Essential Commodities Act (ECA) প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র।
কেন এই জরুরি সিদ্ধান্ত?
যুদ্ধের আবহে দেশে যাতে রান্নার গ্যাসের (LPG) কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয় এবং কালোবাজারি রুখে জোগান স্বাভাবিক রাখা যায়, সেই লক্ষ্যেই এই কড়া পদক্ষেপ। সোমবার পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের পক্ষ থেকে একটি জরুরি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
সরকারের নির্দেশিকায় যা বলা হয়েছে:
রান্নার গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে রিফাইনারি এবং পেট্রোকেমিক্যাল ইউনিটগুলিকে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে:
-
-
উৎপাদন বৃদ্ধি: পেট্রোকেমিক্যাল তৈরির বদলে এখন রান্নার গ্যাস (LPG) উৎপাদনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
-
হাইড্রোকার্বন স্ট্রিমের ব্যবহার: সি৩ (C3) এবং সি৪ (C4) স্ট্রিমের সমস্ত আউটপুট— যার মধ্যে বুটেন, প্রোপিলিন এবং বিউটিন রয়েছে— সেগুলিকে অন্য কাজে ব্যবহার না করে সরাসরি এলপিজি পুলে পাঠাতে হবে।
-
তিন সংস্থাকে দায়িত্ব: দেশের তিন প্রধান সরকারি তেল সংস্থা— ইন্ডিয়ান অয়েল (IOC), ভারত পেট্রোলিয়াম (BPCL) এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম (HPCL)-কে দ্রুত জোগান নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
-
কী এই ‘অপরিহার্য পণ্য আইন’ (ECA)?
১৯৫৫ সালের এই বিশেষ আইনটি সাধারণত যুদ্ধ, খরা বা চরম মুদ্রাস্ফীতির মতো জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করা হয়।
-
উদ্দেশ্য: নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুতদারি রোখা, সঠিক সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা।
-
আগেও কার্যকর: এর আগে ডাল, গম, চিনি বা ভোজ্য তেলের সংকট মেটাতে সরকার ৫ বার এই আইনের সাহায্য নিয়েছিল। এবার রান্নার গ্যাসকে সুরক্ষিত রাখতে এই বর্ম ব্যবহার করা হচ্ছে।
সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব
আপাতত সরকারের লক্ষ্য হলো শিল্পক্ষেত্রে গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে ঘরোয়া ব্যবহারের জন্য সিলিন্ডারের জোগান অব্যাহত রাখা। অর্থাৎ, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা থাকলেও ভারতের সাধারণ গৃহস্থ যেন সময়মতো এবং সঠিক দামে গ্যাস পান, তা নিশ্চিত করতেই এই ‘ইমার্জেন্সি মোড’ অন করেছে কেন্দ্র।