হজরতবাল দরগায় জাতীয় প্রতীক, শোরগোল জম্মু ও কাশ্মীর জুড়ে

জম্মু ও কাশ্মীরের হজরতবাল দরগায় জাতীয় প্রতীক খোদাই করা একটি ফলক স্থাপনকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি (পিডিপি)-র সভাপতি মেহবুবা মুফতি ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারপার্সন দরখশন আন্দরাবির বিরুদ্ধে ‘ধর্মনিন্দার’ অভিযোগ এনেছেন।

ঠিক কী ঘটেছিল?
গত শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) হজরতবাল দরগার ভেতরে নতুন করে একটি গ্রানাইট ফলক স্থাপন করা হয়, যাতে জাতীয় প্রতীক খোদাই করা ছিল। ফলকটিতে ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারপার্সন দরখশন আন্দরাবিসহ একাধিক আধিকারিকের নাম উৎকীর্ণ ছিল। ফলকটি স্থাপনের পর এর প্রতিবাদে স্থানীয়রা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি ফলকটির জাতীয় প্রতীকে ইট দিয়ে আঘাত করছেন এবং উপস্থিত জনতা ‘নিজাম-এ-মুস্তাফা’ স্লোগান দিচ্ছে।

এরপরই পুলিশ ফলক ভাঙচুরের অভিযোগে মামলা দায়ের করে। তবে মুফতি দাবি করেছেন, মামলা ভাঙচুরকারীদের বিরুদ্ধে নয়, বরং আন্দরাবির বিরুদ্ধেই হওয়া উচিত।

কেন এই বিতর্ক?
মেহবুবা মুফতি এই ঘটনাকে ‘ইসলামবিরোধী’ কাজ এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের কাছে মহানবী (সা.)-এর চেয়ে বড় আর কেউ নন। তাঁর সঙ্গে যুক্ত পবিত্র স্থানে এ ধরনের প্রতীক বসানো গুরুতর ধর্মীয় অপরাধ।”

ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লাহও আন্দরাবির সমালোচনা করে বলেছেন, জাতীয় প্রতীক শুধুমাত্র সরকারি ভবন ও প্রতিষ্ঠানের জন্য সংরক্ষিত, কোনো ধর্মীয় স্থানে নয়।

আইনের চোখে এই ঘটনা
২০০৫ সালের জাতীয় প্রতীক (অপব্যবহার নিষিদ্ধকরণ) আইন অনুসারে, জাতীয় প্রতীক বাণিজ্য, ব্যক্তিগত প্রচার বা ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয়। এর শাস্তি সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা জরিমানা। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধর্মীয় স্থানে জাতীয় প্রতীক স্থাপন কেবল ইসলামী সংস্কৃতির পরিপন্থী নয়, বরং সাংবিধানিক অধিকারেরও লঙ্ঘন।

২০১৯ সালে ৩৭০ ধারা বাতিলের পর থেকে জম্মু ও কাশ্মীরের ওয়াকফ বোর্ড বিজেপি-র নিয়ন্ত্রণে আসে। বিরোধীরা মনে করছেন, এই ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে এবং বিজেপি ধর্মীয় স্থানকে নিজেদের রাজনৈতিক প্রচারের কাজে লাগাচ্ছে।

মীরওয়াইজ উমর ফারুকের নেতৃত্বাধীন মুতাহিদা মজলিস-এ-উলামা (এমএমইউ)-ও এই ফলক সরানোর দাবি জানিয়েছে। তারা বলেছে, ইসলামে মসজিদ বা দরগায় কোনো প্রতীক বা ছবি রাখা নিষিদ্ধ। এই ঘটনা জম্মু ও কাশ্মীরের অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। দরখশন আন্দরাবি এখনো এই বিষয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাওয়ায় বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।