শপিং মল বা ক্যাফেতে ফ্রি ওয়াই-ফাই ব্যবহার করছেন? চরম বিপদের মুখে পড়ছেন না তো!

আজকাল ইন্টারনেট আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মেট্রো স্টেশন, বিমানবন্দর, হোটেল, ক্যাফে কিংবা শপিং মলে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই পাওয়া এখন জলভাত। মোবাইল ডেটা বাঁচানোর তাগিদে আমরাও মুহূর্তের মধ্যে অচেনা নেটওয়ার্কে ফোনটি যুক্ত করে ফেলি। তবে এই সামান্য সুবিধাই আপনার অনলাইন নিরাপত্তার জন্য মরণফাঁদ হয়ে উঠতে পারে। তাই পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারের সময় কিছু অত্যন্ত জরুরি সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক।

সবচেয়ে বড় বিপদ হলো ফেক ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক। সাইবার অপরাধীরা প্রায়শই জনপ্রিয় জায়গাগুলোর আসল ওয়াই-ফাই নামের কাছাকাছি নাম দিয়ে ম্যালিসিয়াস হটস্পট তৈরি করে। ব্যবহারকারীরা বিভ্রান্ত হয়ে ভুল নেটওয়ার্কে যুক্ত হন। তাই পাবলিক প্লেসে ওয়াই-ফাই ব্যবহারের আগে সেখানকার কর্মীদের কাছ থেকে সঠিক নাম ও সংযোগের মাধ্যমটি নিশ্চিত করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

অনেকেরই ধারণা থাকে যে এইচটিটিপিএস (HTTPS) এনক্রিপশনযুক্ত ওয়েবসাইট ব্যবহার করলেই বুঝি সব ডেটা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকে। তবে মনে রাখবেন, নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা এবং ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করার সময় কোনোভাবেই অনলাইন ব্যাংকিং বা ক্রেডিট কার্ডের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল কাজ করা উচিত নয়। পাশাপাশি, ফোনের ওয়াই-ফাই অটো-কানেক্ট ফিচারটি বন্ধ রাখা একান্ত জরুরি, যাতে ফোন নিজে থেকেই কোনো ক্ষতিকর ওপেন নেটওয়ার্কে যুক্ত না হয়ে যায়।

ডিভাইসের নিরাপত্তা বাড়াতে নিয়মিত অপারেটিং সিস্টেম এবং সমস্ত অ্যাপ্লিকেশন আপডেট করা উচিত। একইসঙ্গে সব অ্যাকাউন্টে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড এবং টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (2FA) চালু রাখতে হবে। কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পাবলিক ওয়াই-ফাই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিন এবং ফোনের সেভড নেটওয়ার্ক লিস্ট থেকে সেটি ডিলিট করে দেওয়া উচিত। একটু সচেতনতা এবং সতর্কতাই পারে আপনাকে বড় ধরনের সাইবার জালিয়াতি থেকে নিরাপদে রাখতে।