সৎ বাবার বিরুদ্ধে নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেফতার হলেন অভিযুক্ত

উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি থেকে উঠে এল এক অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর এবং হৃদয়বিদারক খবর। নিজের নাবালিকা মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে এক বাবাকে। অভিযুক্ত ব্যক্তি নির্যাতিতা কিশোরীর মায়ের দ্বিতীয় স্বামী। ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসতেই শিলিগুড়ি জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নির্যাতিতার দাদু-দিদার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতকে জলপাইগুড়ি আদালতে পেশ করা হলে তাকে জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি শিলিগুড়ির এনজেপি থানা এলাকার। অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে নির্যাতিতা কিশোরীর মায়ের এটি দ্বিতীয় বিয়ে। মহিলার আগের পক্ষের একটি ১৩ বছর বয়সী নাবালিকা মেয়ে রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সম্প্রতি কিশোরীর মা কাজের সূত্রে বাইরে গেলে বাড়িতে ফাঁকা থাকার সুযোগে সৎ-বাবা ওই নাবালিকাকে ধর্ষণ করে। এরপর সে ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য নাবালিকাকে ভয় দেখায় ও হুমকি দেয়।

ভয়ে প্রথমে নির্যাতিতা কিশোরী এই ভয়াবহ ঘটনা কাউকে জানায়নি। কিন্তু পরে সে তার দাদু ও দিদার কাছে গোটা ঘটনাটি খুলে বলে। নাতনির মুখে এই মর্মান্তিক ঘটনা শুনে দাদু-দিদা আর দেরি করেননি। তারা দ্রুত এনজেপি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তদন্তে নামে এবং শনিবার রাতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। ধৃতের বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। নির্যাতিতা কিশোরী অভিযোগ করেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে তার গায়ে হাত দিত।

নির্যাতিতা মেয়েটির দাদু সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নাতনির সঙ্গে যা ঘটেছে তার কোনও ক্ষমা হয় না। তিনি বলেন, “নাতনি আমাদের সবটা জানানোর পর আমরা পুলিশের দ্বারস্থ হই। জামাই এমন জঘন্য ঘটনা ঘটাবে তা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি। ওর কঠোরতম শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। কোনওভাবেই এই ঘটনাটি মেনে নিতে পারছি না আমরা।” নির্যাতিতার মা-ও এই পাশবিক ঘটনার জন্য সুবিচার চেয়েছেন।

এই ঘটনা আবারও সমাজে শিশুদের নিরাপত্তার প্রশ্নটি তুলে ধরল। পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত ঘটনার সত্য উদঘাটন এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে স্থানীয় জনতা।