স্বামীর দলবদলেই কি বাড়ছে দূরত্ব? সুদীপের দলত্যাগের প্রশ্নে মেজাজ হারালেন তৃণমূল বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়!

স্বামী দলবদল করে এনডিএ-র শরিক হয়ে অন্য শিবিরে যোগ দিলেও, তিনি যে এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই রয়ে গিয়েছেন, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন চৌরঙ্গীর তৃণমূল বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে স্বামী সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলত্যাগ এবং তাঁকে ঘিরে দলের অন্দরে চলা লাগাতার আক্রমণের জেরে যে তিনি তীব্র অস্বস্তিতে রয়েছেন, তা মঙ্গলবার স্পষ্ট হয়ে গেল এক সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে। শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে নেমে আসার পর সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে মেজাজ হারিয়ে ফেলেন নয়না। অত্যন্ত রাগত ও স্পষ্ট স্বরে তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, সুদীপের কোনো দায়িত্ব তিনি নেননি এবং তাঁর সম্পর্কে কোনো কিছু জানতে চাইলে সোজা দিল্লি চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
গতকালের কালীঘাট তৃণমূলের শহিদ দিবসের মঞ্চে বিশৃঙ্খল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মাঝেই উপস্থিত ছিলেন নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুষ্ঠান শেষে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা যখন তাঁকে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান এবং দলত্যাগের জেরে তৈরি হওয়া গুঞ্জন নিয়ে প্রশ্ন করেন, তখন আর নিজেকে সংযত রাখতে পারেননি তিনি। বিরক্ত হয়ে নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়িত্ব আমি নিয়ে বসে নেই। ঠিক আছে। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসা করতে হলে দিল্লি চলো। দিল্লিতে গিয়ে জিজ্ঞাসা করো। আমি তাঁর দায়িত্ব নিয়ে বসে নেই।” তাঁর এই মন্তব্য থেকেই পরিষ্কার হয়ে যায় যে, স্বামীর রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের দায় তিনি নিজের কাঁধে নিতে নারাজ এবং এই বিষয়ে কোনো প্রশ্নের মুখোমুখি হতে তিনি একেবারেই ইচ্ছুক নন।
উল্লেখ্য, কলকাতা উত্তরের দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে এনসিপিআই-এ যোগ দিয়ে এনডিএ শিবিরের হাত ধরার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আর ঠিক এই পটপরিবর্তনের পরেই তৃণমূলের অন্দরে ও বাইরে নানা মহলে প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁর স্ত্রী তথা বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে। শুধু তাই নয়, দলের একাংশের শীর্ষ নেতৃত্বও প্রকাশ্যেই সুদীপবাবুকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করতে ছাড়ছেন না। গতকালের শহিদ মঞ্চ থেকেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কুণাল ঘোষের মতো নেতারা কলকাতা উত্তরের এই সাংসদকে অত্যন্ত কড়া ভাষায় নিশানা করেন। এমনকি কুণাল ঘোষ তাঁকে নিয়ে খোঁচা দিয়ে অতীতে নানা কটূক্তিও করেছেন, যা দলের অন্দরে অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্বামী ভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরে চলে যাওয়ার পরেও তিনি কেন তৃণমূলে রয়ে গেলেন এবং সেই সুবাদে তাঁকে শুনতে হওয়া বিভিন্ন তীর্যক মন্তব্যের জবাব দিতে দিতেই আজ ক্লান্ত ও বিরক্ত চৌরঙ্গীর এই বিধায়ক।