দল বদলেই কি শেষ রক্ষা? তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-এ যাওয়া ২০ সাংসদকে নিয়ে শুরু হলো নতুন জল্পনা

তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে এনসিপিআই (NCPI)-তে যোগ দেওয়া সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদারসহ ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ঘিরে ফের তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দলত্যাগের পর এক মাস কাটতে না কাটতেই রাজনৈতিক মহলে জোরালো জল্পনা শুরু হয়েছে যে, এই বিদ্রোহী সাংসদরা কি এবার সরাসরি বিজেপিতে (BJP) নাম লেখাতে চলেছেন? বিশেষ করে এনডিএ-তে এনসিপিআই সাংসদদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে একাধিক আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ায় এই জল্পনা আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে। সুদীপদের সাংসদ পদের সাংবিধানিক বৈধতা ও স্পিকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে এখন সমস্ত রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত মাসে, যখন দলবিরোধী অবস্থান নিয়ে সুদীপ ও কাকলিসহ প্রায় ২০ জন সাংসদ তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করে নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ এনসিপিআই-তে ভিড়ে যান। কিন্তু এর পরেই তাঁদের সাংসদ পদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরাসরি লোকসভার স্পিকারের কাছে কঠোর চিঠি পাঠায় তৃণমূল নেতৃত্ব। এই আইনি বিতর্ক এড়াতে এবং সম্ভাব্য বরখাস্তের ঝুঁকি থেকে বাঁচতে এখন বিকল্প চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, আইনি জটিলতার স্থায়ী সমাধান হিসেবে ওই ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদকে সরাসরি বিজেপিতে অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়ার একটি গোপন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
এই রাজনৈতিক আবহেই আজ বৃহস্পতিবার দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর। রাজনৈতিক সূত্রে খবর, আগামীকাল শুক্রবারই শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে মুখোমুখি এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে পারেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। ঠিক এমন একটি স্পর্শকাতর মুহূর্তে এই সম্ভাব্য বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই সংসদের আসন্ন বাদল অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালে আয়োজিত সর্বদলীয় বৈঠকে এনসিপিআই সাংসদদের আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, যা নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে চরম বিতর্ক ও বিরোধিতার ঝড় বয়ে যায়। কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতীকী ওয়াকআউট করে প্রশ্ন তোলে যে, নির্বাচন কমিশন বা যথাযথ কতৃপক্ষের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ স্বীকৃতি না পাওয়া সত্ত্বেও কীভাবে ওই নতুন দলকে সর্বদলীয় বৈঠকে ডাকা হলো?
এই সমস্ত বিতর্কের আবহ এড়াতেই কি তবে সুদীপ-কাকলিদের সোজা বিজেপিতে ভিড়িয়ে নেওয়ার পাকা বন্দোবস্ত করা হচ্ছে? এই চাঞ্চল্যকর প্রশ্ন যখন রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে তোলপাড় তুলছে, তখন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি অত্যন্ত সতর্ক প্রতিক্রিয়া দেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “ওদের দলের যিনি নেতা আছেন, তিনি এই বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন। আমি কী করে বলব? আমি কেবল বিজেপির কথাই বলতে পারি। আমি এনডিএ-র মুখপাত্র বা নেতা নই।” তিনি আরও যোগ করেন যে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি সম্পূর্ণ একা লড়েই ঐতিহাসিক জয় অর্জন করেছিল এবং সেই জয়ে তাদের কোনো সহযোগী বা শরিক দলের প্রয়োজন পড়েনি।
সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের ঠিক আগে এই ধারাবাহিক রাজনৈতিক পালাবদল এবং নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহ যে বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন এবং তীব্র উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। সুদীপ-কাকলিদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে চলেছে এবং দিল্লি বৈঠকে ঠিক কী বার্তা উঠে আসে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।