স্বামীর চেয়ে বেশি আয় স্ত্রীর! অন্তর্বর্তী ভরণপোষণের দাবি খারিজ করে বম্বে হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়!

পারিবারিক বিরোধের এক হাই-প্রোফাইল মামলায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করল বম্বে হাইকোর্ট। স্বামীর আয়ের তুলনায় নিজের উপার্জন বেশি হওয়ায় এক মহিলার মাসিক অন্তর্বর্তী ভরণপোষণের আবেদন সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে বম্বে হাইকোর্ট অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় পর্যবেক্ষণ করেছে যে, বিদেশে বিলাসবহুল জীবনযাত্রার অতিরিক্ত খরচকে একমাত্র ভিত্তি করে স্বামীর কাছে আইনি ভরণপোষণের দাবি জানানো আইনগতভাবে যুক্তিযুক্ত নয়। পাশাপাশি, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর লাগাতার ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে ভবিষ্যতে স্বামীর চাকরিও যে চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, সে বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে আদালত। ফলে বিচ্ছেদের মতো পরিস্থিতিতে উচ্চ আয়ের একজন স্ত্রীর আর্থিক দায়িত্ব সামলানো স্বামীর পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে উচ্চ আদালত।

মামলার নথি থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আবেদনকারী ওই মহিলা ২০১১ সাল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন এবং একটি স্বনামধন্য দিল্লিভিত্তিক আইটি সংস্থা ‘মার্ক ইনফোটেক’-এ কর্মরত রয়েছেন। তাঁর মাসিক আয় প্রায় ৮ লক্ষ টাকা বা প্রায় ৮,৭০০ মার্কিন ডলার। অন্যদিকে, তাঁর স্বামীও ইনফরমেশন টেকনোলজি বা আইটি সেক্টরেই কর্মরত থাকলেও তাঁর মাসিক আয় স্ত্রীর তুলনায় বেশ খানিকটা কম। বিচারপতি ভারতী ডাংরে এবং বিচারপতি মঞ্জুষা দেশপান্ডের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ সমস্ত আইনি দিক খতিয়ে দেখে ওই মহিলার মাসিক ১ লক্ষ টাকার অন্তর্বর্তী ভরণপোষণের দাবি সরাসরি নাকচ করে দেয়।

আদালত জানায়, বর্তমান কর্পোরেট ও প্রযুক্তি শিল্পে প্রতিযোগিতা যেভাবে দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি বড় ধরনের ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা তৈরি করছে, তাতে স্বামীর চাকরি ও ভবিষ্যৎ আয় সম্পূর্ণ অনিশ্চিত। এই বাস্তব পরিস্থিতির নিরিখে স্ত্রীর পক্ষে স্বামীর কাছ থেকে খোরপোষ দাবি করার কোনো জোরালো আইনি ভিত্তি আদালত খুঁজে পায়নি। তাই প্রতিমাসে লক্ষাধিক টাকা উপার্জনকারী কোনো সাবালিকা মহিলার আর্থিক বোঝা বিচ্ছেদের পরেও স্বামীর ওপর চাপানোর কোনো যৌক্তিকতা থাকতে পারে না।

উল্লেখ্য, এর আগে নিম্ন আদালত বা পারিবারিক আদালতও মহিলার এই অন্তর্বর্তী ভরণপোষণের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। তবে মামলার আইনি খরচ বাবদ স্বামীকে তাঁর স্ত্রীকে এককালীন ২৫ হাজার টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পারিবারিক বিরোধের জেরে এই দম্পতির দুই সন্তানের মধ্যে বড় সন্তান বর্তমানে বাবার সঙ্গে এবং ছোট সন্তান মায়ের কাছে বসবাস করছে। পারিবারিক আদালতের সেই পূর্বের নির্দেশকেই চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ওই মহিলা। কিন্তু বম্বে হাইকোর্ট পারিবারিক আদালতের রায়কেই বহাল রেখে মহিলার সমস্ত আর্জি খারিজ করে দিয়েছে।