স্বামীর খুনি কারাগারে, কারওয়া চৌথ কি পালন করবেন সোনম রঘুবংশী? মৃত স্বামী না প্রেমিক, কার জন্য হবে উপবাস?

সামনেই আসছে করওয়া চৌথ। এই দিনে বিবাহিত মহিলারা তাঁদের স্বামীদের দীর্ঘায়ু কামনা করে উপবাস পালন করেন। কিন্তু এই বছর সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ইনদওরের বহুল আলোচিত খুনের ঘটনা—জেলবন্দি সোনম রঘুবংশী কি এই উপবাস পালন করবেন? আর যদি করেন, তবে কার জন্য—তাঁর হাতে খুন হওয়া মৃত স্বামী রাজা রঘুবংশীর জন্য, না কি তাঁকে খুনে সাহায্য করা প্রেমিক রাজ কুশওয়াহার জন্য?
প্রেমিকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে খুন
ইনদওরের এক ধনী ব্যবসায়ী পরিবারের মেয়ে সোনম পারিবারিক ব্যবসায় সাহায্য করতেন। এই সময়ে বাবার ফার্মের কর্মী রাজ কুশওয়াহার প্রেমে পড়েন তিনি। রাজ তাঁর থেকে বয়সে ছোট হলেও সোনম তাঁর প্রতি এতটাই আসক্ত হয়ে পড়েন যে, পরিবারের সমস্ত পরামর্শ উপেক্ষা করেন।
পরিবার সোনমের বিয়ে দেয় ইনদওরের সফল ব্যবসায়ী রাজা রঘুবংশীর সঙ্গে, ১১ মে। কিন্তু সোনমের মন ছিল প্রেমিকের কাছেই। বিয়ের মাত্র ছয় দিনের মাথায় ষড়যন্ত্র শুরু হয়।
সোনম রাজ কুশওয়াহার সঙ্গে মিলে রাজাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন।
খুনের স্থান: হানিমুনের নাম করে তাঁরা রাজাকে মেঘালয়ের শিলংয়ে নিয়ে যান।
খুনের তারিখ: ২৩ মে, ২০২৫ তারিখে পাহাড়ে হাঁটার সময় খুনিরা রাজাকে আক্রমণ করে এবং তাঁর মৃতদেহ একটি খাদে ফেলে দেওয়া হয়।
মিথ্যা: খুনের পর সোনম তাঁর শাশুড়িকে মিথ্যা বলেন যে, তিনি একাদশীর উপবাস করছেন।
পুলিশি তদন্তে জানা যায়, সোনম নিজেই খুনিদের জন্য টিকিট বুক করেছিলেন। পরিকল্পনাটি তিনবার ব্যর্থ হওয়ার পর চতুর্থ প্রচেষ্টায় সফল হয়। রাজ কুশওয়াহা মূল খুনি হলেও, সোনমই সবকিছু পরিকল্পনা করেছিলেন।
কারাগারে সোনম, প্রশ্ন ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে
খুনের পর সোনম গাজিপুরের একটি ধাবায় আত্মসমর্পণ করেন। রাজ কুশওয়াহাকেও গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে দু’জনেই জেলে বন্দি। পুলিশ আরও পাঁচজন খুনিকে গ্রেফতার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় সোনম স্বীকার করেছেন যে, তিনি কখনও রাজাকে বিয়ে করতে চাননি।
জেল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে বন্দীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা আছে, তাই তিনি চাইলে উপবাস পালন করতে পারেন। কিন্তু আইনত বিবাহিত স্বামী খুন হওয়ার পর এবং প্রেমিকের সঙ্গে কারাবন্দি অবস্থায়, কারওয়া চৌথের মতো উপবাস পালন করা হবে কি না—তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে সাধারণ মানুষের মনে।