রাম মন্দিরে পাস বিক্রির রমরমা! বড় চক্রের পর্দাফাঁস, এবার দক্ষিণ ভারতের ধাঁচে কড়া নিরাপত্তা?

রাম মন্দিরকে কেন্দ্র করে একদিকে ভক্তি, অন্যদিকে অপরাধ চক্রের কালো ছায়া। রামলালার মন্দিরে ভিভিআইপি (VVIP) পাস বিক্রির মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠল। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়ার পর, মন্দিরের নিরাপত্তা ও পরিচালনা ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাম মন্দির ট্রাস্ট।

পাস বিক্রির অবৈধ কারবার এসআইটি-র প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, একটি অপরাধ চক্র দীর্ঘ সময় ধরে ভিভিআইপি পাসের অপব্যবহার করছিল। পুলিশের হেফাজতে থাকা মূল অভিযুক্ত টিনু যাদবের জেরা থেকে জানা যায়, মন্দিরের কিছু পদস্থ কর্মকর্তার আইডি কোড ব্যবহার করে প্রতিদিন হাজার হাজার নকল ভিভিআইপি পাস তৈরি করা হতো। পরে সেই পাসগুলো হোটেল ও ধর্মশালায় থাকা পুণ্যার্থীদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করে বিপুল অর্থ কামাত ওই চক্র। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, কোন কোন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার আইডি এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত।

দক্ষিণের আদলে বদলাচ্ছে রাম মন্দিরের ‘এসওপি’ প্রণামীর অর্থ ও অলঙ্কার চুরির ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এবার দক্ষিণ ভারতের বিখ্যাত মন্দিরগুলোর ধাঁচে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (SOP) অনুসরণের পথে হাঁটছে রাম মন্দির ট্রাস্ট। এর আগে ট্রাস্টের চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্র মিশ্র মন্দিরে সিইও (CEO) নিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

কী কী বদল আসতে পারে? দক্ষিণের তিরুপতি বালাজি, পদ্মনাভস্বামী বা মীনাক্ষী আম্মানের মতো মন্দিরগুলোতে যে কঠোর ব্যবস্থাপনা রয়েছে, তা অযোধ্যায় কার্যকর করার পরিকল্পনা চলছে:

  • বুলেটপ্রুফ গণনা কেন্দ্র: দান সংগ্রহ বা প্রণামী গণনার জায়গা বুলেটপ্রুফ কাঁচ দিয়ে ঘেরা থাকবে, যা ভক্তরা বাইরে থেকে দেখতে পাবেন।

  • পকেটবিহীন ইউনিফর্ম: প্রণামী গণনার কাজে নিয়োজিত কর্মীদের পকেটবিহীন বিশেষ ইউনিফর্ম পরতে হবে। ধাতব বস্তু বা গয়না পরে সেখানে প্রবেশের অনুমতি থাকবে না।

  • বহুস্তরীয় তল্লাশি: মন্দির চত্বরে প্রবেশের আগে মেটাল ডিটেক্টর ও বডি স্ক্যানারের মাধ্যমে তিন স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।

  • ডিজিটাল অ্যাক্সেস কন্ট্রোল: দান বাক্সের চাবি এককভাবে কারও হাতে থাকবে না। একাধিক কর্মকর্তার কাছে থাকবে অ্যাক্সেস কার্ড। গণনা কক্ষে কার প্রবেশ ও প্রস্থান—সবই নথিভুক্ত হবে কেন্দ্রীয় কম্পিউটারে।

  • সর্বক্ষণ নজরদারি: কন্ট্রোল রুম থেকে শত শত ক্যামেরার মাধ্যমে মন্দির চত্বরে প্রতি মুহূর্তের কর্মকাণ্ডে তীক্ষ্ণ নজর রাখা হবে।

উল্লেখ্য, আগামী ১৩ জুলাই সুপ্রিম কোর্টে এই প্রণামী চুরির সংক্রান্ত মামলার শুনানি রয়েছে। তার আগেই এই প্রশাসনিক সংস্কারের ঘোষণা মন্দির ট্রাস্টের স্বচ্ছতা ফেরানোর একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।