স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বড় পদক্ষেপ! ৪৪ জন চিকিৎসক-অধ্যাপকের বদলি, সংশোধন হলো পুরনো ‘অন্যায়’ নির্দেশ?

দায়িত্ব নেওয়ার পরেই স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বড় রদবদল ঘটালেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। রাজ্যজুড়ে মোট ৪৪ জন চিকিৎসক-অধ্যাপককে বদলির নির্দেশ জারি করেছে স্বাস্থ্য দফতর। দীর্ঘদিনের বিতর্কিত এবং ‘অন্যায় বদলি’ হিসেবে চিহ্নিত একাধিক নির্দেশের সংশোধনে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে খবর।

কেন এই বদলি? গত কয়েক বছরে একাধিক চিকিৎসক-অধ্যাপককে প্রশাসনিক কারণ ছাড়াই কলকাতার বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ থেকে দূরবর্তী জেলায়, যেমন—পুরুলিয়া, বাঁকুড়া বা উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনা নিয়ে চিকিৎসক মহলে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শারদ্বত মুখোপাধ্যায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, অতীতের এই বিতর্কিত বদলিগুলো খতিয়ে দেখা হবে। ৪৪ জনের এই নতুন তালিকা সেই প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

কারা পেলেন স্বস্তি? স্বাস্থ্য দফতরের এই নির্দেশে বেশ কয়েকজন পরিচিত নাম রয়েছেন:

  • ডাঃ অর্পিতা রায়চৌধুরী (নেফ্রোলজি প্রধান, এসএসকেএম): ২০২২ সালে মেডিক্যাল কাউন্সিল নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর তাঁকে উত্তরবঙ্গে বদলি করা হয়েছিল। এবার তাঁর বদলি নিয়ে হওয়া বিতর্কের অবসানের ইঙ্গিত মিলেছে।

  • ডাঃ পরাগ বরণ পাল (সাগর দত্ত মেডিক্যাল): ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের এই অধ্যাপককে পুরুলিয়া থেকে ফিরিয়ে আনার পথে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

  • ডাঃ বিষাণ বসু (কলকাতা ন্যাশনাল মেডিক্যাল): রেডিওথেরাপি বিভাগের এই অধ্যাপককেও ঝাড়গ্রাম থেকে কলকাতায় ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

প্রতিক্রিয়া নতুন বদলির এই তালিকায় কারা কোন মেডিক্যাল কলেজে যোগ দিচ্ছেন এবং আগের বিতর্কিত নির্দেশগুলোর কতটা সংশোধন হলো, তা নিয়ে এখন চিকিৎসক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোর শিক্ষক ও চিকিৎসকদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ প্রশমিত হতে পারে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফিরবে।