স্ত্রী ও দুই সন্তানকে কুড়ালের কোপ! শেষে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে ‘আত্মহত্যা’ স্বামীর

পারিবারিক বিবাদের জেরে এক ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী থাকল মধ্যপ্রদেশের মোরেনা জেলা। শুক্রবার গভীর রাতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে কুড়াল দিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার পর, বাড়ির কর্তা নিজেও ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কীভাবে ঘটল ঘটনা?

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের নাম বলরাম কুশওয়াহা, তাঁর স্ত্রী রবিতা কুশওয়াহা এবং তাঁদের দুই সন্তান। মাতা বাসাইয়া থানার অন্তর্গত কিষাণপুর গ্রামে শুক্রবার রাতে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। শনিবার সকালে প্রতিবেশীরা দীর্ঘক্ষণ বাড়ির ভেতর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে উঁকি দিলে উঠোনে তিনজনের রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। একই সময়ে কাছাকাছি রেললাইন থেকে এক ব্যক্তির দেহ উদ্ধার হওয়ার খবর পৌঁছায় থানায়, যা পরে বলরামের দেহ বলে শনাক্ত করা হয়।

কেন এই চরম সিদ্ধান্ত?

প্রাথমিক তদন্তে দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তিই এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ বলে মনে করছে পুলিশ। নিহতের বাবা মালখান কুশওয়াহার অভিযোগ:

  • প্রায় ১০ দিন আগে গ্রামে আয়োজিত এক ‘ভাগবত কথা’ অনুষ্ঠানে রবিতা নাচ করেছিলেন।

  • সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বলরামের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর তীব্র অশান্তি শুরু হয়।

  • ঘটনার পর বলরাম রবিতাকে মারধর করেন এবং বাড়ি থেকে বের করে দেন। বাধ্য হয়ে রবিতা বাবার বাড়ি চলে যান।

  • ২৪ জুন বলরাম ও তাঁর আত্মীয়রা রবিতাকে বুঝিয়ে ফিরিয়ে আনেন, কিন্তু শান্তি ফেরেনি। শুক্রবার রাতে সেই অশান্তিই চরম আকার ধারণ করে।

তদন্তে পুলিশ

মোরেনার ডিএসপি (সদর) বিজয় ভাদোরিয়া জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্ট যে বলরামই নিজের হাতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করেছেন এবং পরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা চারটি দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছি। ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ এবং ঠিক কী পরিস্থিতিতে এই ভয়াবহ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, তা জানতে পরিবার ও প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।”

ঘটনাস্থল থেকে ফরেনসিক নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতেই হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।