বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে শহর কলকাতার নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। বুধবার খাস কলকাতার স্ট্র্যান্ড রোডের একটি সুলভ শৌচালয় থেকে উদ্ধার হলো বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি। কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (STF) হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে বিহারের বাসিন্দা এক অস্ত্র পাচারকারীকে।
শৌচালয়ের আড়ালে অস্ত্র লেনদেন? পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতের নাম মহম্মদ ইউসুফ। সে বিহারের নালন্দার বাসিন্দা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে স্ট্র্যান্ড রোডের ওই সুলভ শৌচালয়ে হানা দেয় এসটিএফ-এর আধিকারিকরা। ইউসুফকে আটক করে তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে আসে মারণাস্ত্রের সম্ভার। উদ্ধার করা হয়েছে:
৩টি দেশি পিস্তল ও ২টি অত্যাধুনিক 7MM পিস্তল।
৪টি ম্যাগাজিন।
১৮টি 8MM কার্তুজ এবং ২২টি 7.6MM কার্তুজ।
নির্বাচনের আগে বাড়ছে আতঙ্ক: আগামী ২৩ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার ভোট। তার আগে খাস কলকাতার জনবহুল এলাকায় এভাবে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গোয়েন্দাদের প্রাথমিক অনুমান, নির্বাচনের সময় অশান্তি পাকানোর লক্ষ্যেই এই অস্ত্রগুলো শহরে আনা হয়েছিল। এই চক্রের পেছনে বড় কোনো মাথা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে লালবাজার।
রাজ্যজুড়ে কড়া নজরদারি: শুধু কলকাতাই নয়, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রাজ্যজুড়ে নাকা চেকিং চলছে কড়াভাবে। কোচবিহারে নাকা চেকিংয়ে উদ্ধার হয়েছে ৬টি আগ্নেয়াস্ত্র। অন্যদিকে দুর্গাপুর ও অন্যান্য এলাকা থেকে উদ্ধার হয়েছে লক্ষ লক্ষ নগদ টাকা। কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে আসার পরেও যেভাবে অস্ত্র ও টাকা উদ্ধার হচ্ছে, তাতে প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
ভোটের নির্ঘণ্ট একনজরে:
প্রথম দফা: ২৩ এপ্রিল (১৫২ আসন)
দ্বিতীয় দফা: ২৯ এপ্রিল (১৪২ আসন)
ফল ঘোষণা: ৪ মে
শহরের বুকে আর কোথায় কোথায় অস্ত্র লুকানো রয়েছে, তার সন্ধানে তল্লাশি জোরদার করেছে এসটিএফ। ধৃত ইউসুফকে জেরা করে এই কারবারের মূল পাণ্ডার হদিশ পাওয়ার চেষ্টা চলছে।





