বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে হুগলির চুঁচুড়ায় বড়সড় প্রচার কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছিল বিজেপি। আয়োজিত হয়েছিল বর্ণাঢ্য ‘শঙ্খনাদ’ শোভাযাত্রা। কিন্তু সেই উৎসবের মেজাজ নিমেষেই ম্লান হয়ে গেল যখন কেন্দ্রীয় নেত্রী তথা প্রাক্তন মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি শোভাযাত্রা সম্পূর্ণ না করেই মাঝপথ থেকে বিদায় নিলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হুগলি জেলা বিজেপির অন্দরে বড়সড় ফাটল ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের তত্ত্ব ডানা মেলতে শুরু করেছে।
কী ঘটেছিল চুঁচুড়ায়?
সুপর্ণা পারুইয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, এদিন চুঁচুড়ার ঘড়ির মোড় সংলগ্ন এলাকা থেকে শঙ্খনাদ শোভাযাত্রা শুরু হয়। স্মৃতি ইরানি হুডখোলা গাড়িতে উঠে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়াচ্ছিলেন। কিন্তু মিছিলটি সামান্য এগোতেই ছন্দপতন ঘটে।
আকস্মিক প্রস্থান: শোভাযাত্রাটি যখন তার মাঝপথে পৌঁছায়, তখনই হঠাৎ স্মৃতি ইরানি গাড়ি থেকে নেমে পড়েন এবং অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে চলে যান।
কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি: নেত্রীকে আচমকা চলে যেতে দেখে সেখানে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। এরপর মিছিলটি আর আগের উদ্দীপনায় এগোতে পারেনি।
গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নাকি অন্য কিছু?
বিজেপির স্থানীয় সূত্রের খবর, কর্মসূচির ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় নেতাদের গুরুত্ব দেওয়া নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। স্মৃতির এই ‘ওয়াকআউট’ সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ কি না, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিদায়কে ‘সময়ের অভাব’ বা ‘অন্য জরুরি কাজ’ বলে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তৃণমূলের কটাক্ষ
এই ঘটনাকে হাতছাড়া করতে চায়নি তৃণমূল কংগ্রেস। স্থানীয় ঘাসফুল শিবিরের দাবি, “বিজেপির ঘর সামলানোই এখন দায়। যেখানে কেন্দ্রীয় নেত্রীরাই অপমানিত হয়ে মিছিল ছাড়ছেন, সেখানে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন তো দূর অস্ত।”
বিশেষ আপডেট: নির্বাচনী মরসুমে যখন ঐক্যবদ্ধ প্রচারের ডাক দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও শাহ, তখন চুঁচুড়ার এই ঘটনা হুগলিতে বিজেপির সংগঠনে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিল।





