আইপিএল-এর মঞ্চে এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই কলকাতা নাইট রাইডার্সের। টানা দুই ম্যাচে জয় কিছুটা স্বস্তি দিলেও, প্লে-অফের রাস্তা এখনও যথেষ্ট কণ্টকাকীর্ণ। আজ রবিবার সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে মাঠে নামছে শ্রেয়স আইয়ারের দল। এই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে নাইটদের তাতিয়ে দিলেন খোদ বিসিসিআই-এর প্রাক্তন সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। কেকেআর-এর কামব্যাকের স্বপ্নে তিনি টেনে আনলেন লিয়োনেল মেসির আর্জেন্তিনার বিশ্বজয়ের উদাহরণ।
প্লে-অফের জটিল অঙ্ক: কত পয়েন্ট চাই? কেকেআর-এর জন্য হিসেবটা এখন খুব পরিষ্কার— হারলেই বিদায়। প্লে-অফে পা রাখতে গেলে বাকি থাকা ৬টি ম্যাচের মধ্যে অন্তত ৫ থেকে ৬টিতে জিততেই হবে।
১৭ পয়েন্ট (নিশ্চিত): বাকি সব কটি ম্যাচ জিতলে নাইটদের পয়েন্ট হবে ১৭। সে ক্ষেত্রে কোনো সমীকরণ ছাড়াই প্লে-অফের টিকিট পাকা।
১৫ পয়েন্ট (ঝুঁকি): যদি ৬টির মধ্যে ৫টিতে জয় আসে, তবে পয়েন্ট দাঁড়াবে ১৫। সে ক্ষেত্রে তাকিয়ে থাকতে হবে নেট রান রেট (NRR) এবং অন্য দলগুলির ফলাফলের দিকে।
১৩ পয়েন্ট (অসম্ভব): মাত্র ৪টি ম্যাচ জিতলে ১৩ পয়েন্ট হবে, যা দিয়ে প্লে-অফের আশা কার্যত নেই বললেই চলে।
নাইটদের ভোকাল টনিক দিলেন দাদা: কেকেআর-এর খারাপ ফর্ম এবং পাথিরানাসহ বোলিং বিভাগের চোট নিয়ে যখন চিন্তায় সমর্থকরা, তখন সৌরভ মনে করিয়ে দিলেন ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপের কথা। তিনি বলেন, “খেলার মাঠে ছন্দ হারিয়ে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। আর্জেন্তিনা তো সৌদি আরবের কাছে হেরে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয়েই মাঠ ছাড়ে।” নিজের দল প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, খারাপ শুরুর পরও টানা ৬ ম্যাচ জিতে ফাইনালে যাওয়া সম্ভব।
রিঙ্কু সিং ও ব্যাটিং পজিশন নিয়ে বিশেষ পরামর্শ: কেকেআর-এর সাম্প্রতিক জয়ে রিঙ্কু সিংয়ের বড় ভূমিকা রয়েছে। সৌরভের পরামর্শ মেনেই রিঙ্কুকে ব্যাটিং অর্ডারে উপরের দিকে নামানো হয়েছে। এই প্রসঙ্গে মহারাজ বলেন, “ভালো প্লেয়ার যত বেশি বল খেলার সুযোগ পাবে, রান তত বাড়বে। ১০ বলে তো কেউ ১০০ রান করতে পারবে না। আমি, সচিন বা দ্রাবিড়— আমরা সবাই উপরে নামতাম কারণ বেশি বল খেলতে চাইতাম। রিঙ্কুর ক্ষেত্রেও সেই একই কৌশল কাজে লেগেছে।”
রান রেটের কাঁটা: বর্তমানে কলকাতার নেট রান রেট -০.৭৫১ (প্রায়)। ফলে শুধু জিতলেই হবে না, বড় ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিয়ে রান রেটকেও ইতিবাচক জায়গায় নিয়ে আসতে হবে। আজ হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে মরণ-বাঁচন ম্যাচে নাইটরা সৌরভের এই ‘বিজয় মন্ত্র’ কাজে লাগিয়ে মাঠ ছাড়তে পারে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে আপামর ক্রিকেট প্রেমীরা।





