স্ক্রিন ফুঁড়ে এল গুলি! শুভেন্দুর ছায়াসঙ্গী খুনের হাড়হিম করা ফুটেজ ফাঁস, এ যেন সিনেমার স্ক্রিপ্ট!

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং দীর্ঘ আট বছরের বিশ্বস্ত ছায়াসঙ্গী চন্দ্রনাথ রথের হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এবার এল এক চাঞ্চল্যকর মোড়। মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়া এলাকায় ঠিক কীভাবে চন্দ্রনাথকে খুন করা হয়েছিল, তার হাড়হিম করা সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ এখন তদন্তকারীদের হাতে। পেশাদার ঘাতকরা যে কতটা নিখুঁত পরিকল্পনা করে এই অপারেশন চালিয়েছিল, তা দেখে তাজ্জব দুঁদে পুলিশ কর্তারাও।
তদন্ত সূত্রে জানা যাচ্ছে, বুধবার রাতে মধ্যমগ্রাম থেকে বারাসতের দিকে নিজের কালো স্করপিও গাড়িতে ফিরছিলেন চন্দ্রনাথ। তাঁর আসল বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরের কুলুপ গ্রামে হলেও, কাজের প্রয়োজনে তিনি বারাসতেই একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, ঘটনার দিন একটি নতুন গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্ব বুঝে নিতেই তিনি মধ্যমগ্রামে গিয়েছিলেন। শুভেন্দু অধিকারীর কলকাতার যাবতীয় কাজ থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত সচিবের ভূমিকা—সবটাই সামলাতেন এই তরুণ। সম্ভবত তাঁর সেই গতিবিধির ওপর আগে থেকেই নজর রাখছিল আততায়ীরা।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, চন্দ্রনাথের গাড়িটি যখন যশোহর রোড থেকে মুজিবর রহমান রোড হয়ে তাঁর ফ্ল্যাটের দিকে যাচ্ছিল, তখনই শুরু হয় চূড়ান্ত পর্ব। একটি প্যাকেজিং প্রাইভেট লিমিটেড সংস্থার গেটের কাছে পৌঁছতেই একটি চারচাকা গাড়ি আচমকা বিপরীত দিক থেকে এসে চন্দ্রনাথের স্করপিও-র পথ আটকে দাঁড়ায়। রাস্তাটি অত্যন্ত সরু হওয়ায় চন্দ্রনাথের চালকের পক্ষে গাড়িটি ঘুরিয়ে বা গতি বাড়িয়ে পালানোর কোনও পথ ছিল না।
গাড়িটি থামা মাত্রই ঘাতকরা নেমে এসে চন্দ্রনাথের জানলার কাচে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে একের পর এক গুলি চালায়। রক্তে ভেসে যায় গাড়ির ভিতরটা। খুনের মিশন শেষ করেই পূর্বপরিকল্পিত ভাবে একটি মোটরবাইকে চড়ে অলিগলি দিয়ে বাদু রোডের দিকে চম্পট দেয় খুনিরা। পুলিশ নিশ্চিত যে, আততায়ীরা এই এলাকার ভূগোল সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিল। ফুটেজ থেকে অপরাধীদের শনাক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক পালাবদলের এই সন্ধিক্ষণে শুভেন্দুর খাস লোকের এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড যে রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় ঝড় তুলতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।