স্কুল-হাসপাতালের পাশে আর নয় মদের দোকান! প্রথম বাজেটেই কড়া দাওয়াই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

রাজ্যে পালাবদলের পর আজ প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের এই বাজেট একদিকে যেমন সরকারি কর্মচারীদের ডিএ ও নারীকল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তেমনই আবগারি নীতিতে এনেছে আমূল পরিবর্তন। সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের কথা মাথায় রেখে মদের দোকানের লাইসেন্স ও অবস্থান নিয়ে বড়সড় কড়াকড়ির ঘোষণা করল রাজ্য।
কী কী পরিবর্তন আসছে? দীর্ঘদিন ধরে স্কুল, কলেজ ও ধর্মীয় স্থানের পাশে যত্রতত্র মদের দোকান খোলা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ছিল বিভিন্ন মহলে। সেই ক্ষোভ প্রশমনে এদিন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এখন থেকে রাজ্যের কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল বা ধর্মীয় কেন্দ্রের ১ কিলোমিটার পরিধির মধ্যে নতুন করে কোনও মদের দোকানের লাইসেন্স দেওয়া হবে না। এটি রাজ্যের সার্বিক সামাজিক পরিবেশ বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কলকাতা নিয়ে বিশেষ নিয়ম তবে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং ভিন্ন ভৌগোলিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে কলকাতা পুরনিগম এলাকার জন্য নিয়মে কিছুটা শিথিলতা রাখা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানান, “কলকাতার মতো জনবহুল এলাকায় এই দূরত্বের মাপকাঠি ১ কিলোমিটারের পরিবর্তে ৫০০ মিটার নির্ধারণ করা হয়েছে।” সমাজকল্যাণের লক্ষ্যে এই নতুন নিয়ম রাজ্যজুড়ে দ্রুত কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
উড়ান প্রকল্পে যোগাযোগ ব্যবস্থার জোয়ার শুধু আবগারি নীতি নয়, রাজ্যজুড়ে পর্যটন ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে উন্নত করতেও বাজেটে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের প্রান্তিক জেলাগুলোর সঙ্গে রাজধানী কলকাতার দূরত্ব কমাতে সরকারের নিজস্ব ‘উড়ান প্রকল্প’-এর আওতায় একাধিক নতুন বিমানবন্দর তৈরির কথা ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। সব মিলিয়ে, পরিকাঠামো উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রথম বাজেটেই জনমোহিনী পদক্ষেপ নিতে দেখা গেল শুভেন্দু অধিকারীর সরকারকে।