শিক্ষার মন্দির নাকি সিন্ডিকেটের আস্তানা? দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলায় একটি স্কুলের বিরুদ্ধে উঠেছে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রতি বছর ধুমধাম করে স্কুল বন্ধ রেখে আয়োজন করা হয় জাহাঙ্গির খান নামে এক ব্যক্তির জন্মদিনের উৎসব। আর এই উৎসবের খরচের টাকা আসে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের থেকে তোলা আদায় করে!
স্কুল বন্ধ করে জন্মদিনের আসর
অভিযোগ, নিয়মবহির্ভূতভাবে স্কুল চলাকালীন ক্লাস বন্ধ রেখে স্কুলের চত্বরেই আয়োজন করা হয় জাহাঙ্গিরের জন্মদিনের অনুষ্ঠান। স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, শিক্ষাঙ্গনের পবিত্রতাকে উপেক্ষা করে সেখানে যেভাবে জাঁকজমকপূর্ণ উৎসব পালন করা হয়, তা নিয়ে অভিভাবক মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্কুলের পঠনপাঠন শিকেয় তুলে এই ধরণের কর্মকাণ্ডে স্থানীয় প্রশাসনের নীরবতা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
৫০ হাজার টাকা তোলা আদায়ের অভিযোগ
এই জন্মদিনের উৎসবের খরচ মেটাতে সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে মোটা অঙ্কের টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছে ওই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রতি বছরই জাহাঙ্গিরের জন্মদিনের নাম করে তাঁদের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে তোলা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকার করলে ব্যবসায়িক কাজে বাধা দেওয়া থেকে শুরু করে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
অস্বস্তিতে স্থানীয় প্রশাসন
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ব্যবসায়ীদের একাংশ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে ভয় পেলেও, তাঁদের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। প্রশ্ন উঠছে, পুলিশের নাকের ডগায় কীভাবে বছরের পর বছর স্কুল বন্ধ করে এমন ঘটনা ঘটে চলেছে?
তদন্তকারী মহল ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, অবিলম্বে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন এবং যারা শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে তোলাবাজি চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার।





