স্কুলের সভাপতির বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষিকার গুরুতর অভিযোগ! ঘটনা জানুয়ারির, এখন কী পদক্ষেপ নিল কলকাতা হাইকোর্ট?

জলপাইগুড়ির সুনীতিবালা সদর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুতপা দাসকে কান ধরে ওঠবস করানোর অভিযোগে বিস্মিত কলকাতা হাইকোর্ট। স্কুলটির পরিচালন সমিতির সভাপতি তথা জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে, যদিও তার সত্যতা যাচাই সাপেক্ষ।

এই ঘটনায় চেয়ারম্যানকে অবিলম্বে তাঁর পদ থেকে অপসারণের নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন প্রধান শিক্ষিকা সুতপা দাস। তাঁর আইনজীবী উদয় শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়ের মাধ্যমে তিনি ঘটনাটির সত্যতা যাচাই করতে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশও চেয়েছেন।

জানুয়ারির ঘটনা, এবার DI-এর রিপোর্ট তলব হাইকোর্টের
শুক্রবার জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। এমন একটি অভিযোগ শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেন বিচারপতি কৌশিক চন্দ। তিনি গত ১৩ নভেম্বর প্রকাশিত ভিডিওটির সত্যতা জানতে জেলা স্কুল পরিদর্শক (DI)-এর রিপোর্ট তলব করেছেন। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তাঁকে রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি চলতি বছরের ৪ জানুয়ারির। সেদিন স্কুলে একটি অনুষ্ঠানের পর স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি সৈকত চট্টোপাধ্যায় প্রধান শিক্ষিকার ঘরে যান। সেখানেই তাঁকে কান ধরে ওঠবস করতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ। দীর্ঘদিন গোপন থাকার পর সম্প্রতি ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই বিষয়টি জানাজানি হয়।

‘অনৈকিত কাজ করার চাপ ও মিড-ডে মিলে ফাঁসানোর হুমকি’
প্রধান শিক্ষিকা সুতপা দাসের অভিযোগ আরও গুরুতর। তিনি জানান, ঘটনার দিন সভাপতি সৈকত চট্টোপাধ্যায় তাঁকে অনৈতিক কাজ করার জন্য চাপ দিতে থাকেন। তিনি বলেন, “এই ঘটনা যেদিন ঘটে, সেদিন স্কুল পরিচালন কমিটির সভাপতি সৈকত চট্টোপাধ্যায় এসে আমার ঘরে আসেন। সহকারী প্রধান শিক্ষিকাকেও ডাকেন। অনৈতিক কাজ করার জন্য চাপ দিতে শুরু করেন আমাদের। অন্য শিক্ষিকাদের আমার বিরুদ্ধে একজোট করতে শুরু করেন। আমাকে কান ধরে ওঠবস করতে বলেন সৈকত চট্টোপাধ্যায়। সহকারী প্রধান শিক্ষিকাকে পা ধরে বসিয়ে রাখেন। মিড ডে মিলে কারচুপির অভিযোগে ফাঁসিয়ে দেবেন বলে হুমকিও দিতে থাকেন।”

সুতপা দাস আরও জানান, ঘটনার লিখিত অভিযোগ ভিডিও ফুটেজ-সহ তিনি শিক্ষা দফতরে পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু কোনও সমাধান হয়নি। পরে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনার ভিডিও পোস্ট করেন। যদিও প্রধান শিক্ষিকার বক্তব্য, তিনি শুধু শিক্ষা সহ সংশ্লিষ্ট দফতরে ফুটেজ দিয়েছিলেন, বিরোধী দলনেতাকে নয়।