বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে এক হাড়হিম করা ঘোষণা করল সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE)। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রভাবশালী তেল উৎপাদক গোষ্ঠী OPEC (ওপেক) এবং OPEC+ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছে তারা। আন্তর্জাতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
কেন এই ঐতিহাসিক প্রস্থান? দীর্ঘদিন ধরেই ওপেকের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে কাজ করেছে ইউএই। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে জোটের উৎপাদন কোটা (Production Quota) নিয়ে তাদের মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধছিল। ইউএই-র অভিযোগ, তাদের তেল উত্তোলনের ক্ষমতা বাড়লেও জোটের নিয়মে তারা বেশি তেল বিক্রি করতে পারছে না। ফলে স্বাধীনভাবে উৎপাদন বাড়িয়ে নিজেদের আয় নিশ্চিত করতেই এই ‘এক্সিট’ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সৌদি আরবের জন্য বড় ধাক্কা এতদিন সৌদি আরবকে ওপেকের অভিভাবক হিসেবে ধরা হতো। কিন্তু ইউএই সরে আসায় সৌদির সেই একক আধিপত্যে বড় ফাটল ধরল। এই পদক্ষেপের ফলে ওপেক গোষ্ঠীর বাকি দেশগুলোর মধ্যেও ভাঙন ধরার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে জোটের শক্তিকে অনেকটাই কমিয়ে দেবে।
ভারতে জ্বালানির ওপর প্রভাব কী? বিশ্ববাজারে তেলের দাম ইতিমধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনায় টালমাটাল। এই পরিস্থিতিতে আমিরাতের মতো বড় উৎপাদক দেশ স্বাধীনভাবে তেল উৎপাদন শুরু করলে বাজারে সরবরাহ বাড়তে পারে। তবে সরবরাহ বাড়লে দাম কমার কথা থাকলেও, জোটের অস্থিরতায় তেলের দামে অনিশ্চয়তা ও ওঠানামা বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ভারতের পেট্রোল ও ডিজেলের দামে।
অনিশ্চয়তায় জ্বালানি নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, তেলের বাজারে আরব আমিরাতের এই সিদ্ধান্ত শুধু বাণিজ্যিক নয়, বরং অত্যন্ত রাজনৈতিক। এর ফলে ওপেক প্লাসের ভবিষ্যৎ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তার ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলো এখন গভীর উদ্বেগের সাথে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। একদিকে আমিরাত বেশি তেল ছাড়লে দাম কমার আশা থাকলেও, অন্যদিকে ওপেকের অভ্যন্তরীণ কোন্দল বিশ্ব অর্থনীতিকে নতুন কোনো সংকটের দিকে ঠেলে দেয় কি না, সেটাই এখন দেখার।
আরও পড়ুন:
ইরান সংকটে সাড়ে ৪ কোটি মানুষ কি অনাহারে মরবে? বিশ্বব্যাঙ্কের ভয়াবহ রিপোর্ট।
অষ্টম পে কমিশনের মেগা বৈঠক দিল্লিতে! বেতন কি একধাক্কায় বাড়বে অনেকখানি?





