যুদ্ধ নয়, ইরানকে ভাতে মারার কৌশল ট্রাম্পের! আর মাত্র ২২ দিনের রসদ, ধসে পড়ার মুখে তেহরানের অর্থনীতি?

মাঝেমধ্যে সামরিক হামলা বা সম্মুখ সমরের পথে না হেঁটে, ইরানকে ধীরে ধীরে নিস্তেজ করে দেওয়ার এক দীর্ঘমেয়াদী ‘স্নায়ুযুদ্ধ’ শুরু করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকার এই অর্থনৈতিক অবরোধের মরণকামড়ে বর্তমানে কার্যত নাভিশ্বাস উঠেছে ইরানের। পরিস্থিতি এতটাই শোচনীয় যে, তেহরানের হাতে তেলের সঞ্চয় বজায় রাখার মতো ক্ষমতাও আর কয়েক দিন পরেই শেষ হতে চলেছে।

ট্রাম্পের ‘নিঃশব্দ’ ঘাতক কৌশল: আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প এবার যুদ্ধের ঝুঁকি না নিয়ে ইরানকে ভাতে মারার কৌশলে হাঁটছেন। হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন কড়াকড়ির জেরে ইরানের তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলি আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছাতে পারছে না। ফলে দেশটির আয়ের প্রধান উৎস অর্থাৎ তেল রপ্তানি প্রায় তলানিতে এসে ঠেকেছে। ট্রাম্পের এই ‘দীর্ঘমেয়াদী অবরোধ’ তেহরানের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছে।

আর মাত্র ১২ থেকে ২২ দিনের ক্ষমতা! পরিসংখ্যান বলছে, ইরানের অবস্থা এখন ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’। ক্রমাগত তেল উৎপাদন চললেও তা রপ্তানি করা যাচ্ছে না। ফলে ইরানের মজুত ভাণ্ডার (Oil Storage) প্রায় কানায় কানায় পূর্ণ। হাতে আর মাত্র ১২ থেকে ২২ দিনের মতো তেল ধরে রাখার জায়গা আছে। এর পরে হয় তাদের তেলের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হবে, অথবা বিশাল লোকসানে তেল নষ্ট করতে হবে। তেলের উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া মানেই রাজকোষে বড় ধরনের ধস নামা।

চাপে পশ্চিমী দুনিয়াও: আমেরিকা ও ইরানের এই ইঁদুর-বেড়াল লড়াইয়ের আঁচ পড়ছে বিশ্ব বাজারেও। একদিকে ইরানের তেল আটকে দেওয়ায় জোগান কমছে, যার ফলে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে ট্রাম্পের লক্ষ্য স্পষ্ট— ইরানকে এতটাই কোণঠাসা করা যাতে তারা পরমাণু কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আমেরিকার শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হয়।

কোন পথে হাঁটবে ইরান? নিজেদের রাজকোষ বাঁচাতে এবং অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ সামাল দিতে ইরান কি শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় বসবে? নাকি তেলের ভাণ্ডার শেষ হওয়ার আগেই কোনো মরিয়া সামরিক পদক্ষেপ নেবে? বর্তমানে এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে আন্তর্জাতিক মহলে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy