মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা এবার আরও প্রকট। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবিকে ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে হরমুজ প্রণালী নিয়ে নিজেদের কড়া অবস্থান স্পষ্ট করল ইরান। তেহরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে চলা যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না। ইরানের এই অনড় অবস্থানে রীতিমতো চাপে পড়ে গেছে পশ্চিমী বিশ্ব।
নতুন নিয়মে ‘চেকমেট’ দিতে চায় ইরান: শুধুমাত্র অবরোধ নয়, এবার জাহাজ চলাচলের ওপর তিন দফা নতুন নিয়ম চালুর পরিকল্পনা করছে ইরান:
ইজরায়েলি জাহাজে নিষেধাজ্ঞা: ইজরায়েলের সঙ্গে যুক্ত বা সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজ এই পথে প্রবেশ করতে পারবে না।
শত্রু দেশের ওপর নিয়ন্ত্রণ: শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলোর বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর জারি হবে কড়া বিধিনিষেধ।
বিলাসবহুল টোল আদায়: ইরান জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় তাদের যে বিপুল ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতে এই জলপথ দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর ওপর বিশেষ ‘টোল’ বসানো হবে।
ট্রাম্প বনাম ইরান: শুরু স্নায়ুযুদ্ধ সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, অভ্যন্তরীণ সঙ্কটে জেরবার ইরান নাকি জলপথ খুলে দেওয়ার জন্য আমেরিকার কাছে তদ্বির করছে। কিন্তু ইরান এই দাবিকে উড়িয়ে দিয়ে উল্টে রাষ্ট্রপুঞ্জে নালিশ জানিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সইদ ইরাভানি সাফ জানিয়েছেন, আমেরিকা আগে নৌ-অবরোধ তুলুক, তবেই আলোচনার প্রশ্ন।
মাঝসমুদ্রে হাহাকার: বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের অন্যতম প্রধান ধমনী হলো এই হরমুজ প্রণালী। বর্তমানে এই জলপথ অবরুদ্ধ থাকায় প্রায় ২,০০০ পণ্যবাহী জাহাজ মাঝসমুদ্রে আটকে পড়েছে। একদিকে তেলের সরবরাহ কমছে, অন্যদিকে বাড়ছে পরিবহণ খরচ। যার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে।
ফেব্রুয়ারি মাস থেকে আমেরিকা ও ইজরায়েলি হামলায় একাধিক শীর্ষ আধিকারিককে হারিয়েছে ইরান। তার বদলা নিতেই তেহরান এবার বিশ্ব বাণিজ্যের ‘লাইফলাইন’ আটকে পশ্চিমী দুনিয়াকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখল।





