বিশ্ববাজারে মার্কিন-ইরান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ ক্রমাগত চড়তে থাকলেও, আজ সোমবার ভারতীয় সোনা ও রুপার বাজারে এক অদ্ভুত স্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা গেছে। সপ্তাহান্তের ছুটির পর ট্রেডিং সেশন বন্ধ থাকা এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা নিয়ন্ত্রিত থাকার কারণেই বড় কোনো অস্থিরতা তৈরি হয়নি। তবে গত সপ্তাহের সামগ্রিক হিসাব ধরলে ধাতু দুটির মূল্যে বেশ উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়েছে।
ইন্ডিয়া বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, আজ দেশজুড়ে ২৪ ক্যারেট সোনার গড় দাম প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ১,৫৯,০০০ টাকার আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। তবে বিনিয়োগকারীদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে রুপার দরের ঊর্ধ্বগতি। আজ দেশজুড়ে রুপার দাম প্রতি কিলোগ্রামে প্রায় ২,৮৫,০০০ টাকার কাছাকাছি। বিশেষ করে গত এক সপ্তাহে রুপার দাম প্রায় ৫,০০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাজারে নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, ইলেকট্রনিক্স ও সৌরবিদ্যুৎ শিল্পে রুপার ব্যবহার এবং চাহিদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় এই মূল্যবান ধাতুর দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
ভারতের প্রধান শহরগুলোতে সোনার দরের চিত্রটি নিম্নরূপ:
রাজধানী দিল্লিতে আজ ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৫৮,৭৬০ টাকা থেকে ১,৫৯,২১০ টাকার পরিসরে রয়েছে। অন্যদিকে, ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ১,৪৫,৫৩০ টাকায় স্থির রয়েছে। বাণিজ্যনগরী মুম্বই এবং সাংস্কৃতিক রাজধানী কলকাতায় সোনার দরে বিশেষ কোনো পার্থক্য নেই। উভয় শহরেই ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ১,৫৯,০৬০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা প্রায় ১,৪৫,৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তবে দক্ষিণ ভারতের চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন। চেন্নাইতে আজ সোনার দাম দেশের অন্যান্য প্রান্তের তুলনায় কিছুটা বেশি। সেখানে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রামে ১,৬০,৬৯০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৪৭,৩০০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ ভারতে ঐতিহ্যগতভাবে সোনার চাহিদা সবসময়ই তুঙ্গে থাকে, যার ফলে স্থানীয় বাজারে দরের ওপরও তার প্রতিফলন স্পষ্ট।
সামগ্রিকভাবে, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কার মধ্যে সোনা ও রুপাকে এখনও সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ। তবে যারা অলংকার বা বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে সোনা কিনছেন, তাদের নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। আজ সোমবার বাজার স্থিতিশীল থাকলেও, বিশ্ববাজারের বর্তমান পরিস্থিতির নিরিখে চলতি সপ্তাহে দামের ক্ষেত্রে বড় কোনো চমক আসবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে।





