সোনার দামে কী প্রভাব ফেলবে নতুন ‘GST?’ ১ লাখের গয়নায় কতটা সাশ্রয় হবে জানুন

সম্প্রতি জিএসটি কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আনা হলেও, সোনা ও রুপোর করের হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ফলে অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে, উৎসবের মরশুমের আগে সোনার দাম কি এবার কমে যাবে? আসুন, এই বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নিই।
সোনার ওপর জিএসটি কি পরিবর্তিত হয়েছে?
না, সোনা এবং রুপোর ওপর জিএসটি হার আগের মতোই আছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সোনার গহনার লেনদেন মূল্যের ওপর ৩% এবং গহনা তৈরির চার্জ বা মেকিং চার্জের ওপর ৫% জিএসটি আগের মতোই বহাল থাকছে। তাই জিএসটি সংস্কারের কারণে সোনার দামে কোনো সরাসরি প্রভাব পড়বে না।
১ লক্ষ টাকার গহনায় জিএসটি কীভাবে হিসাব করবেন?
যদি আপনি ১ লক্ষ টাকার গহনা কেনেন, তাহলে জিএসটি হিসাব করা হবে এভাবে:
ধাতুর মূল্য: যদি ৯৫,০০০ টাকা হয়, তাহলে তার ওপর ৩% জিএসটি = ২৮৫০ টাকা।
মেকিং চার্জ: যদি ৫,০০০ টাকা হয়, তাহলে তার ওপর ৫% জিএসটি = ২৫০ টাকা।
মোট জিএসটি: ২৮৫০ + ২৫০ = ৩,১০০ টাকা।
মোট বিল: ১,০০,০০০ + ৩,১০০ = ১,০৩,১০০ টাকা।
অর্থাৎ, জিএসটি-র কারণে আপনার সরাসরি কোনো সাশ্রয় হচ্ছে না। তবে অনেক দোকান বিভিন্ন অফার ঘোষণা করতে পারে, যা গ্রাহকদের কিছুটা ছাড় পেতে সাহায্য করতে পারে।
সোনার দাম কমার আসল কারণ কী?
সোনার দাম বাড়া বা কমার মূল কারণগুলো হলো:
আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার মূল্য।
মার্কিন ডলারের বিনিময় হার।
আমদানি শুল্ক।
স্থানীয় চাহিদা।
যেহেতু জিএসটি হারে কোনো পরিবর্তন হয়নি, তাই উৎসবের মরসুমে সোনার দাম কেমন থাকবে তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক বাজার এবং সরকারের আমদানি নীতির ওপর।
উপসংহার
সোনার গহনা কেনার সময় সচেতন থাকা জরুরি। মেকিং চার্জ আলাদা করে বিল করিয়ে নেওয়া উচিত, যাতে কর সঠিকভাবে বোঝা যায়। এছাড়া, বিভিন্ন দোকানে দাম ও মেকিং চার্জের তুলনা করে এবং বড় অঙ্কের গহনা কেনার আগে সনদপত্র ও গ্যারান্টি যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।