৭.৮ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধিতে ছারখার বিরোধীদের প্রোপাগাণ্ডা! রাহুল গান্ধীকে মোক্ষম জবাব রবিশঙ্কর প্রসাদের

নয়াদিল্লির প্রধান কার্যালয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রেস কনফারেন্সে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) বিশিষ্ট নেতা ও সাংসদ রবিশঙ্কর প্রসাদ দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি জানান যে, চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মধ্যপ্রাচ্যের তেল সংকট এবং সাপ্লাই চেইনে চরম বাধার মধ্যেও ২০২৬ সালের এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে ভারত এক অনন্য নজির গড়ে ৭.৮ শতাংশ শক্তিশালী জিডিপি (GDP) প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। রবিশঙ্কর প্রসাদ জোর দিয়ে বলেন যে, বিশ্বের অন্যান্য উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের প্রবৃদ্ধির হারের তুলনায় ভারতের এই ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধি গোটা বিশ্বের কাছে একটি বড় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

তুলনামূলক পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান যে, একই সময়ে কানাডার জিডিপি বৃদ্ধি ছিল মাত্র ১.৫ শতাংশ, জার্মানির ১ শতাংশ, যুক্তরাজ্যের ২.১ শতাংশ, আমেরিকার প্রায় ২.১ শতাংশ, মালয়েশিয়ার প্রায় ৬ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ৩.৭ শতাংশ। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালীর মতো ভৌগোলিক উত্তেজনার জেরে তেলের দাম যখন ওঠানামা করছে, ঠিক সেই সংকটজনক পরিস্থিতিতেও ভারতের এই জিডিপি বৃদ্ধি দেশের শক্তিশালী অর্থনৈতিক নীতি এবং অটুট প্রশাসনিক সক্ষমতারই স্পষ্ট প্রমাণ দেয়। তিনি এই সফলতার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের সুচারু আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সঠিক নীতি নির্ধারণকে প্রদান করেন।

অতীতের সঙ্গে বর্তমানের তুলনা টেনে বিজেপি নেতা স্মৃতিচারণ করেন যে, এক দশক আগে ২০১৩ সালের দিকে ভারতীয় অর্থনীতিকে আন্তর্জাতিক স্তরে ‘ফ্রাজাইল ফাইভ’ বা সবচেয়ে দুর্বল পাঁচটি উদীয়মান অর্থনীতির একটি হিসেবে গণ্য করা হতো। সেই সময় নীতিনির্ধারণের অভাবে দেশ জুড়ে একপ্রকার ‘পলিসি প্যারালাইসিস’ বা স্থবিরতা বিরাজ করছিল। নিউইয়র্কের এক আন্তর্জাতিক সেমিনারের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করে তিনি জানান যে, সেই সময় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় অর্থনীতি নিয়ে চরম আশঙ্কায় ভুগতেন এবং দেশ থেকে নিজেদের মূলধন তুলে নেওয়ার কথা ভাবতেন। সেখান থেকে আজ ঘুরে দাঁড়িয়ে বিশ্বের অন্যতম দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশে পরিণত হওয়া এক ঐতিহাসিক রূপান্তর বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সাংবাদিক বৈঠকের শেষ পর্যায়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে তীব্র আক্রমণ করেন রবিশঙ্কর প্রসাদ। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, রাহুল গান্ধী কি ইচ্ছাকৃতভাবে বিশ্বমঞ্চে ভারতের অর্থনৈতিক মনোবল ভেঙে দেওয়ার সুপারি নিয়েছেন? বিরোধী নেতার সেই পুরনো মন্তব্যকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন যে, যারা একসময় ভারতীয় অর্থনীতিকে ‘মৃত অর্থনীতি’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন, আজকের এই ৭.৮ শতাংশের শক্তিশালী জিডিপি প্রবৃদ্ধি তাঁদের সেই সমস্ত ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবির মুখে এক মোক্ষম ও সপ্নোচিত জবাব। ম্যানুফ্যাকচারিং, বাণিজ্য এবং সার্ভিস সেক্টরের নিরলস অবদানের সুবাদে ভারত আজ অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার ঝঞ্ঝা পেরিয়ে সাফল্যের নতুন শিখরে অবস্থান করছে।