ইউক্রেনের আকাশে রাশিয়ার মারণ ড্রোন-মিসাইলের তাণ্ডব! প্রাণ হারালেন এক ভারতীয়সহ ১২ জন সাধারণ নাগরিক

ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার লাগাতার ও নৃশংস সামরিক আগ্রাসনের জেরে এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক খবর সামনে এসেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক উচ্চপর্যায়ের বিবৃতে জানিয়েছেন যে, গত রাতে রুশ বাহিনীর তীব্র বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ১২ জন সাধারণ মানুষ। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, এই মারণ হামলায় নিহতদের তালিকায় একজন ভারতীয় নাগরিকও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ (X) একটি শোকবার্তায় জেলেনস্কি এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন এবং শোকাগ্রস্ত পরিবারগুলির প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন। এই আকস্মিক ও ধ্বংসাত্মক হামলায় বহু মানুষ গুরুতর জখম হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বর্ণনা করে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জানান যে, রোমহর্ষক এই হামলার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন শহর ও দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকাজ জোরকদমে চলছে। শুধুমাত্র রাজধানী কিভ এবং তার পার্শ্ববর্তী সংবেদনশীল অঞ্চলগুলিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ও আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধার করতে প্রায় ৩৫০ জন প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মী রাত থেকে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। রুশ বাহিনী এই হামলায় সুনির্দিষ্টভাবে বিপুল সংখ্যক অত্যাধুনিক জেট-চালিত ড্রোন এবং বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবহার করেছে, যা সাধারণ মানুষের জনজীবনকে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই বর্বরোচিত বিমান হামলায় সরাসরি সাধারণ মানুষের আবাসিক ভবন এবং বিভিন্ন নাগরিক পরিকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, বোরিস্পিল এলাকায় একটি পাঁচতলা আবাসিক বহুতল ইমারত সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের শিকার হয়, যার ফলে ভবনটির বিস্তীর্ণ অংশ ধূলিসাৎ হয়ে যায়। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও জরুরি পরিষেবা বিভাগের তৎপরতায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ৫০ জন বাসিন্দাকে অক্ষত অবস্থায় নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ ব্যবসার ওপরও এই হামলার মারাত্মক কোপ পড়েছে। কেবল নির্দিষ্ট ওই এলাকাতেই ৪ জনের প্রাণহানি এবং ১৩ জনের গুরুতর জখম হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যুদ্ধের এই রক্তক্ষয়ী ও ভয়াবহ রূপ আন্তর্জাতিক মহলে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করেছে।