সোনার গয়নায় সেজে উঠলেন কৃষ্ণনগরের রানী ‘বুড়িমা’! শতাব্দী প্রাচীন পুজোয় লক্ষ লক্ষ ভক্তের ভিড়

প্রতিবছর অক্টোবরের শেষের দিকে কৃষ্ণনগর শহর সেজে ওঠে আলোর সাজে, আর এর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে এখানকার বিখ্যাত ‘বুড়িমা’র পুজো। শতাব্দী প্রাচীন এই উৎসব এবারও ভক্তদের আবেগ, ভক্তি ও উচ্ছ্বাসে শুরু হয়েছে। শহরের রাস্তাঘাট, রাজবাড়ি এবং বিশেষ করে চাষাপাড়া এলাকায় হাজার হাজার ভক্তের সমাগম চোখে পড়ার মতো। ভক্তদের বিশ্বাস, বুড়িমার কাছে কিছু চাইলে তিনি নাকি ফিরিয়ে দেন না, আর সেই আশা নিয়েই প্রতি বছর দূর দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসে পুজো দিতে।

পূজার ইতিহাস ও মাহাত্ম্য:

কথিত আছে, কৃষ্ণনগরের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের হাত ধরেই শহরে এই দেবীর পুজো শুরু হয়েছিল। যদিও বাংলায় এর আগে দেবীর পুজো হত কি না, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। অনেকের মতে, রাজা স্বপ্নাদেশ পেয়ে চাষাপাড়ার লেঠেলদের পুজোর দায়িত্ব দেন। আবার কেউ কেউ বলেন, রাজা চেয়েছিলেন দেবীর পুজো যেন রাজবাড়ির বাইরেও সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। তবে পুজোর শুরু নিয়ে মত ভিন্ন হলেও ভক্তদের বিশ্বাসে বুড়িমার মাহাত্ম্য আজও অটুট।

সোনার গয়না ও বিসর্জনের রীতি:

বুধবার সন্ধ্যায় বুড়িমাকে কেজি কেজি সোনার অলঙ্কার দিয়ে সাজিয়ে তোলা হয়। দেবীকে গয়না পরানোর এই দৃশ্য দেখতে বহু ভক্ত ভিড় করেন। এই সোনার গহনা পরেই মায়ের পুজো সম্পন্ন হয়। এরপর বুড়িমাকে কাঁধে তুলে বেহারারা নিয়ে যাবেন কৃষ্ণনগরের কদমতলা ঘাটে।

বিসর্জনের ঠিক আগের মুহূর্তে মায়ের গয়না খোলা হয়। কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে দিয়ে সেই মূল্যবান অলঙ্কার পুনরায় নির্দিষ্ট স্থানে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এই রীতি প্রতি বছর একইভাবে চলতে থাকে, যা এই উৎসবকে এক ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। শতাব্দীর এই ধারাবাহিকতা, ভক্তদের ভক্তি এবং জমজমাট পরিবেশ চাষাপাড়ার বুড়িমার পুজোকে বাঙালির হৃদয়ে এক অমর ঐতিহ্য হিসেবে বাঁচিয়ে রেখেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy