সেলফি তুলতে গিয়েই কাল! কাবেরী নদীর প্রবল স্রোতে তলিয়ে মৃত্যু একই পরিবারের ৫ সদস্যের

কর্ণাটকের মান্ডিয়া জেলায় এক ভয়াবহ ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন একই পরিবারের পাঁচ সদস্য। মুথাতি এলাকায় কাবেরী নদীর প্রবল স্রোতের কবলে পড়ে অকালে ঝরে গেল পাঁচটি প্রাণ। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন চৈত্রা (২০), প্রিয়ঙ্কা (২৮), শ্বেতা (৩৮), বিজয়াম্মা (৫০) এবং মহেশ। তাঁদের সকলের বাড়ি কর্নাটকের চান্নাপাটনার বিয়াদারাহল্লি এলাকায়। উৎসবের আনন্দ মুহূর্তের মধ্যে শোকের ছায়ায় ঢেকে গেল একটি গোটা পরিবারে।
জানা গিয়েছে, ওই পরিবারটি এদিন মুথাতি এলাকার বিখ্যাত মুথাথিরায়া মন্দিরে পুজো দেওয়ার জন্য একত্রিত হয়েছিলেন। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার পর তাঁরা কিছুটা সময় কাটানোর জন্য কাবেরী নদীর তীরে যান। নদীর শান্ত রূপ দেখে পরিবারের সদস্যরা নদীর ধারে ছবি তুলতে নামেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, নদীর তীরে ছবি তোলার সময়ই ঘটে বিপত্তি। আচমকা নদীর জলস্তর বেড়ে যায় এবং প্রবল স্রোতের কবলে পড়ে পরিবারের একজন তলিয়ে যান। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে একে একে বাকি সদস্যরাও জলের তোড়ে ভেসে যান।
খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় হালাগুরু থানার পুলিশ। খবর দেওয়া হয় দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে। উদ্ধারকারী দল দ্রুত তল্লাশি শুরু করে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই নদী থেকে পাঁচজনের দেহ উদ্ধার করে। দেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মান্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (মিমস) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মান্ডিয়ার পুলিশ সুপার ভি. জে. শোভা রানি। তিনি জানিয়েছেন, কীভাবে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং হালাগুরু থানায় একটি মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
এই ঘটনা আবারও পর্যটনস্থলে অসাবধানতার বিপদকে সামনে নিয়ে এল। বিশেষ করে বর্ষার মরশুমে নদী বা জলাশয়ের জলস্তর ও স্রোত যে কোনো মুহূর্তে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। প্রশাসনিক কর্তাদের মতে, নদীর চরে ছবি তোলা বা স্নান করার সময় অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন। উল্লেখ্য, এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। কয়েক দিন আগেই বিহারের দানাপুর মহকুমায় গঙ্গায় স্নান করতে নেমে তিন কিশোরের মৃত্যু হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চানন নদীতেও অনুরূপভাবে পা ধুতে নেমে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দুই ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছিল। প্রতিটি ক্ষেত্রেই অসাবধানতা ও নদীর গভীরতা বুঝতে না পারার বিষয়টি সামনে এসেছে। পর্যটকদের জন্য এই প্রতিটি ঘটনা এক সতর্কবার্তা হয়ে থাকল।