‘আমি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়িনি’, তারাতলা বিপর্যয়ে দায় এড়ালেন ফিরহাদ হাকিম; প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদাম ধসের ঘটনায় শোকের ছায়া কাটতে না কাটতেই সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে খোদ প্রোমোটার আসগর খানের। দুর্ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন তিনি, কিন্তু উদ্ধারকারীরা তাঁকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনতে পারেননি। এলাকায় আসগর খান হিসেবে পরিচিত এই প্রোমোটারের মৃত্যু এখন রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
প্রভাবশালী প্রোমোটারের মৃত্যু ও রাজনৈতিক সংযোগ এলাকায় প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত আসগর খান রাজ্যের মন্ত্রী তথা কলকাতা বন্দরের বিধায়ক ফিরহাদ হাকিমের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন। শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই বাবুনের সঙ্গেও তাঁকে একাধিক অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছে। বিভিন্ন সরকারি ও পুরসভার অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের পাশে নিয়মিত দেখা যেত তাঁকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিজের এই রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়েই এলাকায় দাপট দেখাতেন আসগর। এমনকি তাঁর একটি পার্কিং লটও ছিল, যেখানে নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রচুর গাড়ি পার্কিং করা হতো বলে অভিযোগ।
প্ল্যান অনুমোদনে বড়সড় জালিয়াতি? কলকাতা পুরসভার (KMC) প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। রিপোর্টে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওই গুদামের বিল্ডিং প্ল্যানটি ছিল ‘ত্রুটিযুক্ত’। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, এত বড় একটি ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে সেই প্ল্যান অনুমোদন পেল? কার মদতে বা কোন প্রভাব খাটিয়ে এই নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
কী বলছেন ফিরহাদ হাকিম? এই ঘটনায় নিজের অস্বস্তি গোপন করেননি বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, “কোথায় কোন বিল্ডিং হচ্ছে, তা তো আমার জানার কথা নয়। পুরসভা প্ল্যান অনুমোদন দেয়। তবে আমি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়িনি, তাই নির্মাণের গুণমান বা কোয়ালিটি সার্টিফাই করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।”
ঘটনাস্থলে যেতে না পারা নিয়ে বিধায়ক জানান, “আমি সকালে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারাতলা থানার ওসি পরামর্শ দেন সরে যেতে, কারণ স্থানীয়দের উত্তেজনায় সেখানে ধাক্কাধাক্কি হচ্ছিল। আমার কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও পরিস্থিতির চাপে আমি ফিরতে বাধ্য হই, যা আমার জন্য অত্যন্ত কষ্টের।” তিনি আরও যোগ করেন, “উদ্ধারকাজকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। কেন এই দুর্ঘটনা ঘটল, কেন ছাদ ভেঙে পড়ল—তা তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত বেরিয়ে আসুক।”
তদন্তের মুখে সবকিছু বর্তমানে উদ্ধারকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এখন তাদের প্রথম লক্ষ্য ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা শেষ ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা। তবে কেএমসি-র প্রাথমিক রিপোর্ট এবং প্রোমোটারের রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা নিয়ে যে বিতর্ক দানা বেঁধেছে, তা তদন্তের মূল ফোকাসে থাকবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।