কাঠমান্ডুতে মর্মান্তিক আত্মহত্যার চেষ্টা! জরিমানার জেরে গায়ে আগুন যুবকের, বালেন শাহের প্রশাসনের বিরুদ্ধে তোলপাড়

কাঠমান্ডুর প্রাণকেন্দ্রে এক ২৫ বছর বয়সি তরুণের গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনায় কার্যত উত্তাল নেপালের রাজনীতি। পুলিশি জরিমানা ও হয়রানির জেরে ওই যুবকের এই চরম পদক্ষেপ নিয়ে এখন বালেন্দ্র শাহের নেতৃত্বাধীন নগর প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। নেপালের পার্লামেন্টেও শাসক ও বিরোধী দল এই ইস্যু নিয়ে একে অপরের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে।

কী ঘটেছিল? জানা গেছে, মুগু জেলার বাসিন্দা ওই যুবক কাঠমান্ডুতে সরকারি চাকরির প্রস্তুতির পাশাপাশি দুবাই যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। অভিযোগ, বৃহস্পতিবার কাঠমান্ডুর পাসপোর্ট ভবনের কাছে মেট্রোপলিটন পুলিশ তাঁর মোটরসাইকেলটি বাজেয়াপ্ত করে লক করে দেয়। গত এক সপ্তাহে এটি দ্বিতীয়বারের মতো ঘটল এবং ১,০০০ নেপালি রুপি জরিমানার মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। আর্থিক অনটনে থাকা ওই যুবক জরিমানা দিতে অস্বীকার করেন। এরপরই ক্ষোভে ও দুঃখে নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন তিনি। বর্তমানে তিনি কাঠমান্ডুর বীর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তাঁর শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ পুড়ে গেছে।

রাজনৈতিক চাপানউতোর এই ঘটনার জেরে নেপালের রাজনৈতিক মহলে চরম অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। বিরোধী নেপালি কংগ্রেসের সাংসদ বাসনা থাপা সরাসরি মেয়র বালেন্দ্র শাহের সমালোচনা করে বলেন, “রাষ্ট্র যখন ন্যায়বিচার দিতে ব্যর্থ হয়, তখন নাগরিকরা এভাবেই মৃত্যুর পথ বেছে নেন।” শাসক দল আরএসপি (RSP)-র সাংসদ আসিকা তামাংও বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং পার্লামেন্টে এই ঘটনার দায় থেকে কেন্দ্রীয় সরকারকে আড়াল করতে গিয়ে বলেন, ঘটনাটি স্থানীয় সরকারের এখতিয়ারভুক্ত। তিনি জানান, ট্র্যাফিক পুলিশ নয়, মিউনিসিপ্যাল পুলিশ এই চাকা লক করার কাজ করেছে।

তদন্তে প্রশাসন ক্রমবর্ধমান জনরোষ ও বিরোধীদের চাপের মুখে সরকার ঘটনার তদন্তে ৫ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। ডিআইজি গোবিন্দ থাপালিয়ার নেতৃত্বাধীন এই কমিটি সংশ্লিষ্ট ৩ জন মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্মকর্তাকে ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে। আহত যুবকের উন্নত চিকিৎসার দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করলেও, এই মর্মান্তিক ঘটনা নেপালের প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে।