সেনা অফিসারদের বিচার সাধারণ ট্রাইব্যুনালে? বিতর্কের মধ্যেই মৃত্যুদণ্ডের পথে ইউনূস প্রশাসন, কী হবে হাসিনার?

বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা সরকারের বিদায় এবং ডঃ মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রেক্ষাপটে এবার হাসিনা আমলের গুরুতর অপরাধের বিচারের জন্য এক কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হলো। গণ-অন্তর্ধানের (Enforced Disappearance) মতো মানবতা বিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত দেওয়ার বিধান রেখে একটি খসড়া অধ্যাদেশে অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।

রাষ্ট্রপতি সই করলেই এই অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হবে, যা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সামরিক বাহিনীর ১৫ জন কর্মকর্তার উপর চাপ আরও বাড়াবে বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা।

মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত সাজা: ‘আয়নাঘরের’ দিন শেষ?
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে ‘আয়নাঘর’ নিয়ে বিতর্ক ছিল। অভিযোগ ছিল, হাসিনা সরকারের সমালোচক, সাংবাদিক ও বিরোধী নেতা-কর্মীদের বেআইনিভাবে আটক করে গোপন ‘আয়নাঘরে’ বন্দি করা হতো, যার ফলে অনেকে গণ-অন্তর্ধানের শিকার হতেন। গণঅভ্যুত্থানের সময়ও এমন বহু অভিযোগ ওঠে।

সরকারের এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব সফিকুল আলম বৃহস্পতিবার রাতে বলেন, “এই অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হওয়ার পর দেশ এক নয়া ইতিহাসের সামনে এসে দাঁড়াবে। আর কোনোদিন গণ-অন্তর্ধানের মতো ঘটনা ঘটবে না।” নয়া আইনে এই ধরনের ঘটনায় দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।

বিচারে ১৫ সেনা কর্মকর্তা ও হাসিনা
১৫ সেনা কর্মকর্তা: সম্প্রতি সামরিক বাহিনী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠিত করার গুরুতর অভিযোগে ১৫ জন সামরিক আধিকারিককে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

ট্রাইব্যুনালে বিচার: ২২ অক্টোবর আটক হওয়া এই ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ দমন ট্রাইবুনালে (International Crimes Tribunal) পেশ করা হয়েছে। সামরিক বাহিনীর নিজস্ব আদালত থাকা সত্ত্বেও সাধারণ ট্রাইব্যুনালে বিচার হওয়া নিয়ে দেশের বিভিন্ন মহলে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তবে সরকার প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

শেখ হাসিনার বিপদ: একাধিক মামলায় অভিযুক্ত হয়ে দেশ ছাড়া হাসিনা। ট্রাইবুনালে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলার শুনানি চলছে, যার মধ্যে একটিতে তিনি দোষী সাব্যস্তও হয়েছেন। তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং ভাগ্নি, ইংল্যান্ডের প্রাক্তন মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকও একাধিক মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন।

ফাঁসির দাবি: গত ১৬ অক্টোবর ট্রাইবুনালের প্রধান আইনজীবী তাজুল ইসলাম হাসিনার ফাঁসির দাবি জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “শেখ হাসিনা একজন ‘হৃদয়হীন অপরাধী’। গণ আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের হত্যার মূলচক্রী। হাসিনার একমাত্র উপযুক্ত শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।”

এই নয়া অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হলে হাসিনা সরকার আমলের উচ্চপদস্থ সামরিক ও প্রশাসনিক কর্তাদের সমস্যা বহুলাংশে বাড়বে।