সেনসেক্সে চড়চড় করে বাড়ছে সবুজ সঙ্কেত! আজ কোন কোন শেয়ারে ঝড় তুলল বড় বিনিয়োগকারীরা?

আজ ভারতীয় শেয়ার বাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এক অদ্ভুত মিশ্র ও টানটান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দিনের শুরুতে ৩০-শেয়ারের বিএসই সেনসেক্স সামান্য ১৪৫ পয়েন্ট বেড়ে ৭৮,১১১ অঙ্কে খুললেও, অন্যদিকে ৫০-শেয়ারের এনএসই নিফটি মাত্র ৪ পয়েন্ট বেড়ে ২৪,৪৩১-এ যাত্রা শুরু করেছিল। কিন্তু লেনদেন এগোতেই ছবিটা দ্রুত বদলাতে শুরু করে। বাজার খোলার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিক্রির প্রবল চাপে নিফটির পারফরম্যান্স তলানিতে গিয়ে ঠেকে এবং তা ২৪,০০০-এর মনস্তাত্ত্বিক ঘরের অনেক নিচে নেমে ২৪,৩৪০ অঙ্কে এসে ঠেকেছে। এর ঠিক উলটো ছবি দেখা গিয়েছে সেনসেক্সে, যেখানে বেলা গড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূচক ১৭৯ পয়েন্ট চড়ে বর্তমানে ৭৭,৭৮৬-এর ঘরে শক্ত অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছে। আজকের এই বাজারের এই অদ্ভুত খামখেয়ালি আচরণের পেছনে মূলত কাজ করছে উইকলি অপশনস বা সাপ্তাহিক অপশনের মেয়াদ শেষের চাপ। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আজকের এই বিশেষ দিনে বড় বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা তাদের পজিশনগুলি পুরোপুরি রিঅ্যারেঞ্জ বা পুনর্বিন্যাস করায় সূচকে বড় ধরনের ওঠানামা পরিলক্ষিত হচ্ছে, যার জেরে সেনসেক্স ৮২,৫০০-এর গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক স্তরটি অতিক্রম করার জন্য তীব্র লড়াই চালাচ্ছে।
আজকের শেয়ার বাজারের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো বাজারে একই সঙ্গে তীব্র কেনাকাটা ও মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা অর্থাৎ বাইং ও প্রফিট বুকিংয়ের হাওয়া বইছে। সেনসেক্সের এই উত্থানের নেপথ্যে মূল ভূমিকা পালন করছে ব্যাঙ্কিং এবং আর্থিক খাতের হেভিওয়েট স্টকগুলি। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বড় বড় ফান্ড হাউজগুলিও এইচডিএফসি ব্যাংক, আইসিআইসিআই ব্যাংক এবং স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার (SBI) মতো প্রথম সারির স্টকগুলিতে একজোটে প্রচুর বিনিয়োগ করছে। এই বিপুল পরিমাণ কেনাকাটার ফলেই সেনসেক্স পতন এড়িয়ে উপরের দিকে ওঠার জ্বালানি পাচ্ছে। তবে ঠিক এর বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তি (IT) এবং ফার্মাসিউটিক্যালস বা ওষুধ শিল্পের সেক্টরগুলিতে। এই দুই গুরুত্বপূর্ণ খাতের স্টকগুলিতে বড় বিনিয়োগকারীরা আজ দেদার মুনাফা তুলে নিচ্ছেন (Profit Booking)। যেহেতু এনএসই নিফটির সূচকে এই আইটি ও ফার্মা কোম্পানির শেয়ারগুলির একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও বড় অংশ দখল করে রয়েছে, তাই এদের দরপতনের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে নিফটির সার্বিক পারফরম্যান্সের ওপর।
আজকের এই সামগ্রিক বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হওয়ার পেছনে মূলত দুটি জোরালো অর্থনৈতিক কারণ লুকিয়ে রয়েছে। প্রথম এবং প্রধান কারণটি হলো মুদ্রাস্ফীতির পরিসংখ্যান। গতকাল সন্ধ্যায় প্রকাশিত সরকারি তথ্যে দেখা গেছে যে, জুলাই মাসে দেশের খুচরা মুদ্রাস্ফীতি বা রিটেল ইনফ্লেশন সামান্য বেড়ে ৪.৪৫ শতাংশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। এই লাগাতার ঊর্ধ্বমুখী মুদ্রাস্ফীতি সামগ্রিক অর্থনীতি ও কর্পোরেট খাতের ওপর এক প্রকার বাড়তি চাপ তৈরি করছে, যার নেতিবাচক মনোভাব প্রভাব ফেলছে স্টক মার্কেটেও। দ্বিতীয় কারণটি হলো আগেই উল্লিখিত সাপ্তাহিক অপশনস বা উইকলি এক্সপায়ারির দিন হওয়া। এই বিশেষ দিনে ট্রেডার ও ইনভেস্টরদের পজিশন স্কোয়ার অফ করার তাড়া থাকায় বাজারে কৃত্রিম অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়। পরিশেষে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হলো—শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করা সর্বদা উচ্চ মাত্রার আর্থিক ঝুঁকির অধীন। সংবাদমাধ্যম বা কোনো প্রতিবেদন কখনই সরাসরি বিনিয়োগ করার জন্য কোনো উৎসাহ বা পরামর্শ দেয় না। এই সমস্ত তথ্য শুধুমাত্র সাধারণ পাঠকদের সচেতনতা এবং আর্থিক বাজারের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করার উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়েছে। আপনি যদি আপনার কষ্টার্জিত অর্থ শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে ইচ্ছুক হন, তবে অবশ্যই কোনো সার্টিফাইড আর্থিক বিশেষজ্ঞের সঠিক পরামর্শ নিয়ে তবেই নিজের ঝুঁকি বিচার করে পদক্ষেপ করুন।