“আমার সন্তানকে বাঁচান!” ধ্বংসস্তূপের নিচে বাবার বুক আঁকড়ে জীবিত উদ্ধার দু’মাসের কচি প্রাণ

পশ্চিম কলম্বিয়ায় আঘাত হানলো একুশ শতকের সবচেয়ে শক্তিশালী ও ভয়াবহ ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্প। এই বিধ্বংসী প্রাকৃতিক দুর্যোগে মুহূর্তে ধূলিসাৎ হয়ে যায় একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবন। তবে এই মর্মান্তিক বিপর্যয়ের মধ্যেও সামনে এলো এক অবিশ্বাস্য ও অলৌকিক ঘটনার খবর, যা গোটা বিশ্বে সাড়া ফেলে দিয়েছে। ভেঙে পড়া ওই বাড়ির বিশাল ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক সাহসী বাবা ও তাঁর দু’মাসের কোঁকড়া চুলের শিশুকে একেবারে জীবন্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। বাড়িটি যখন ধসে পড়ছিল, তখন নিজের জীবনের পরোয়া না করে বাবা তাঁর শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে ছোট্ট শিশুটিকে বুকে আগলে রেখেছিলেন।

ঘটনার দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত দুই সাহসী পুলিশ অফিসার কান্নার ক্ষীণ আওয়াজ শুনতে পেয়ে দ্রুত ধ্বংসস্তূপের ওপর ছুটে যান। উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া অফিসার রোনাল্ড গার্সিয়া সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাঁরা যখন দুর্ঘটনাস্থলের কাছে পৌঁছান, তখন ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে কান্নার পাশাপাশি গোঙানির শব্দ স্পষ্ট শুনতে পাওয়া যাচ্ছিল। চারপাশ তখন তীব্র গ্যাসের গন্ধে ভারী হয়ে উঠেছিল। নিজের আবেগের কথা উল্লেখ করে অফিসার গার্সিয়া বলেন, “আমি নিজেও একজন বাবা, আমার চার বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তাই দ্বিতীয়বার আর কোনো কথা না ভেবেই আমরা তৎক্ষণাৎ খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করে দিই।”

স্থানীয় বাসিন্দারাও পুলিশকে সাহায্য করার জন্য দ্রুত এগিয়ে আসেন। সকলের যৌথ প্রচেষ্টায় অবশেষে সেই ভেঙে পড়া কংক্রিটের স্তূপ খুঁড়ে বাবা এবং তাঁর শিশুসন্তান সালোমনের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়। উদ্ধারের সময় দেখা যায়, বাবা তখনও শরীরের অর্ধেক অংশ ধ্বংসস্তূপের নিচে মারাত্মকভাবে চাপা পড়ে আছেন এবং অবুঝ শিশুটিকে দুই হাত দিয়ে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরে রেখেছেন। অফিসার গার্সিয়া আবেগপ্রবণ হয়ে জানান, “তিনি তখন শুধু আমাদের কাছে একটাই অনুরোধ করছিলেন, যেন তাঁর সন্তানকে কিছুতেই মরতে না দেওয়া হয়।”

স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত দু’জনকেই উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে বাবা ও শিশু দু’জনেই বিপদমুক্ত এবং তাঁদের শারীরিক অবস্থা সম্পূর্ণ স্থিতিশীল রয়েছে। তবে এই খুশির খবরের মধ্যেও বিষাদের ছায়া কেটে যায়নি, কারণ শিশুটির মা এবং মামা এখনও পর্যন্ত ওই সুউচ্চ ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ ও আটকে রয়েছেন। অফিসার গার্সিয়া আশা প্রকাশ করে বলেন, “ঈশ্বর করুন যেন তাঁরাও নিরাপদে বেঁচে থাকেন।” বর্তমানে সেখানে প্রশাসনের তরফ থেকে তল্লাশি অভিযান জোরকদমে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

সরকারি পরিসংখ্যানে জানানো হয়েছে, এই শক্তিশালী ভূমিকম্পের জেরে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৮১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আড়াই হাজারের বেশি মানুষ গুরুতর জখম হয়েছেন। এর মধ্যে শুধুমাত্র কালি শহরেই মৃত্যুর সংখ্যা ৯৫ ছাড়িয়ে গেছে এবং এখনও ১৮০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের মাঝে বাবা ও এই দু’মাসের শিশুর উদ্ধারকে চিকিৎসকমহল ও সাধারণ মানুষ একবাক্যে ‘অলৌকিক’ বলে অভিহিত করছেন।