সুর হারিয়ে কি নীরবতার অতলে? অলকা ইয়াগনিকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে চিকিৎসকদের বড় সতর্কতা

এককালে যাঁর কণ্ঠস্বরে বুঁদ হয়ে থাকত গোটা ভারত, সেই অলকা ইয়াগনিককে বর্তমানে হুইল চেয়ারে বসতে দেখে শিউরে উঠেছে তাঁর অগুনতি অনুরাগী। রাষ্ট্রপতি ভবনে পদ্ম পুরস্কার নিতে আসা ক্ষীণকণ্ঠী শিল্পীর বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে বাড়ছে উৎকণ্ঠা। চিকিৎসকদের মতে, গায়িকা বিরল ‘সেন্সোরিনিউরাল হিয়ারিং লস’ (SNHL)-এ আক্রান্ত।

আসলে এই রোগটি কী? চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, কানের ভেতরে থাকা ককলিয়ার সূক্ষ্ম ‘হেয়ার সেল’ বা শ্রবণ স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই রোগ হয়। এই স্নায়ুই মূলত কানের শব্দকে মস্তিষ্কে পৌঁছায়। একবার এই স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা স্বাভাবিকভাবে সেরে ওঠা প্রায় অসম্ভব। এর ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি ধীরে ধীরে বা হঠাৎ করেই শ্রবণশক্তি হারাতে পারেন।

কেন হয় এই মারণ সমস্যা? বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, এই সমস্যার নেপথ্যে থাকতে পারে একাধিক কারণ:

  • ভাইরাস সংক্রমণ ও প্রদাহ: কানের স্নায়ুর ধমনীতে প্রদাহ হলে তা অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়, যা স্নায়ুকে অকেজো করে দেয়।

  • অন্যান্য রোগ: ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, বা অটোইমিউন রোগ থেকেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

  • জীবনযাত্রা: দীর্ঘ সময় উচ্চশব্দে হেডফোন ব্যবহার, ধূমপান বা হার্টের সমস্যার কারণেও কানের রক্ত সঞ্চালন কমে যেতে পারে।

  • পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: কিছু বিশেষ ধরণের অ্যান্টিবায়োটিক বা কেমোথেরাপির ওষুধের প্রভাবেও শ্রবণশক্তি হারানোর ঝুঁকি থাকে।

প্রাথমিক লক্ষণসমূহ:

  • কথা বুঝতে অসুবিধা হওয়া বা বারবার অন্যদের কথা পুনরায় বলতে বলা।

  • টিভি বা মোবাইলের ভলিউম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে শোনা।

  • কানে সব সময় শোঁ-শোঁ বা ভোঁ-ভোঁ শব্দ হওয়া (টিনিটাস)।

  • উচ্চস্বরের শব্দ শুনতে সমস্যা হওয়া।

সেরে ওঠার উপায় কি আছে? চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, যদি শুরুতেই এই রোগ শনাক্ত করা যায়, তবে দ্রুত চিকিৎসার মাধ্যমে কিছুটা সুরাহা হতে পারে। বর্তমান চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘হিয়ারিং এইড’ (Hearing Aid) বা ‘ককলিয়ার ইমপ্ল্যান্ট’ (Cochlear Implant) ব্যবহারের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত স্নায়ুকে উদ্দীপিত করার চেষ্টা করা হয়। এছাড়া স্পিচ থেরাপি রোগীদের নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে।

তবে, এই রোগ পুরোপুরি সারবে কি না, তা নিয়ে চিকিৎসকদের মধ্যে স্পষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই আক্রান্তকে আজীবনের জন্য বধিরতা বরণ করে নিতে হয়।

সতর্কবার্তা: দীর্ঘদিন উচ্চশব্দের মধ্যে না থাকা, মাঝারি ভলিউমে হেডফোন ব্যবহার করা এবং কানের সামান্য সমস্যাতেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই এই রোগ থেকে বাঁচার প্রধান উপায়। সুরেলা জীবনের এই কঠিন লড়াইয়ে এখন প্রার্থনা ছাড়া আর কিছুই করার নেই ভক্তদের।