সুপ্রিম নির্দেশে চাকরি ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু, ৪২০০ শিক্ষককে নিয়োগপত্র! তবে কেন নতুন পোস্টিং-এ দুশ্চিন্তা

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি বাতিল হওয়া শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শিক্ষাকর্মীদের পুরনো পদে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজ্য সরকার। একসঙ্গে প্রায় ৪২০০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে তাঁদের পূর্বের চাকরিতে পুনর্বহাল করা হচ্ছে। সেই প্রক্রিয়া মেনেই বুধবারও মধ্যশিক্ষা পর্ষদের তরফে পূর্বের চাকরির নিয়োগপত্র বিতরণ করা হচ্ছে।
তবে চাকরি ফিরে পেলেও নতুন পোস্টিং নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অনেকে। যেমন, মানু পাল আগে ইলেভেন-টুয়েলভ-এ চাকরি করতেন, এখন তিনি নবম-দশমে ফিরেছেন। কিন্তু পূর্বের স্কুলটি না পেয়ে তাঁকে মালদহ জেলার পাশের একটি স্কুলে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে।
একইভাবে, ২০১৬-এর নবম-দশমে চাকরি করা অনুরীমা চক্রবর্তীর আগে পোস্টিং ছিল ক্যানিং-এ, কিন্তু এবার তাঁকে দেওয়া হয়েছে মালদহ জেলায়। এত দূরে পোস্টিং পাওয়ায় এখন কী করবেন, তা নিয়ে দিশাহারা তিনি। অলোক সর্দার এবং তপোময় মাইতির মতো অনেক চাকরিপ্রার্থীর ক্ষেত্রেই পূর্বে যেখানে চাকরি করতেন, তার থেকে অনেক দূরে পোস্টিং দেওয়ায় চরম উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষকেরাই সংখ্যায় বেশি
জানা গিয়েছে, এই তালিকায় সব থেকে বেশি নাম রয়েছে প্রাথমিক শিক্ষকদের। নিয়োগে অনিয়মের সময় যাঁরা সরকারি চাকরি ছেড়ে এসেছিলেন—তাঁদের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ, স্কুল সার্ভিস কমিশন এবং মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন থেকে আসা কর্মীদের সংখ্যাই বেশি। অনেকে সুবিধাজনক পোস্টিংয়ের আশায় স্কুল শিক্ষকতার চাকরি ছেড়েই নতুন করে পরীক্ষা দিয়েছিলেন। পুরনো চাকরিতে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে তাঁদেরও।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্দিষ্ট তালিকা দফতরে পৌঁছনোর পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আগামী সপ্তাহ থেকেই নিয়োগপত্র বিতরণ শুরু করবেন। চাকরি বাতিলের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেলেও, দূরের জেলায় পোস্টিংজনিত ভোগান্তি এখন এই ৪২০০ শিক্ষকের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।